Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

Saturday, April 25, 2026

বাস ভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ, কোন রুটে কত বাড়ল

 



বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাসযাত্রীদের জন্য নতুন নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটে পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ এপ্রিল বাসভাড়া সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে ওইদিন ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় দূরপাল্লার বাসে ভাড়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।র্

শনিবার বিআরটিএর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটে পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের পর দূরপাল্লার বাসভাড়ার নতুন তালিকায় দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের ভাড়া তুলে ধরা হয়েছে।

সায়েদাবাদ রুট

ঢাকা (সায়েদাবাদ)-চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সায়েদাবাদ-সিলেট রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫৮০ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৪০ টাকা। সায়েদাবাদ-বরিশাল রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪৬৪ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে ৫৯২ টাকা। সায়েদাবাদ-খুলনা রুটে ৫১ আসনের বাসভাড়া ৫৪১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসভাড়া ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে দীর্ঘ রুট সায়েদাবাদ-টেকনাফে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাবতলী রুট

ঢাকা (গাবতলী)-পঞ্চগড় রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৮১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-রংপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৫১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯১১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-দিনাজপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯৭৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৪১ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী)-ঝিনাইদহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৬৩৯ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-রাজশাহী রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৯১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-মেহেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৮১ টাকা।

মহাখালী রুট

ঢাকা (মহাখালী)-ময়মনসিংহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ২৯৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৩৭৫ টাকা। ঢাকা (মহাখালী)-জামালপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৩৮৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৪৯২ টাকা।

ঢাকা (মহাখালী)-শেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪২১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৩৭ টাকা। ঢাকা (মহাখালী)-কিশোরগঞ্জ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ১৮ এপ্রিল রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা করা হয়।

এরপর ২৩ এপ্রিল ভাড়া সমন্বয় করে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়। আন্তজেলায় ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকায় মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

 সূত্রঃ  বিডি-প্রতিদিন/এআইডি



Thursday, April 9, 2026

ইলিশের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০০ টাকা


 


বাংলা নববর্ষে ইলিশের থাকে আলাদা কদর। এজন্য এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। নববর্ষ আসতে বাকি মাত্র চার দিন। এর মধ্যেই রাজশাহীতে কেজিতে ৫০০-৭০০ বেড়েছে ইলিশের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। এজন্য বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে বেচাকেনা কম।


গতকাল নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, কোর্ট বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগের তুলনায় ইলিশের দাম বেড়েছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১১০০-১২০০ টাকায়। সেই মাছ এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০০-১৮০০ টাকায়। ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ২০০০-২৪০০ টাকায়।


 বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-৩০০০ টাকা কেজিতে। সাহেব বাজারের ক্রেতা লিটন আলী বলেন, অন্য মাছের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও ইলিশের দাম অনেক বেড়েছে। আগে যেগুলো ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেগুলো ১৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পয়লা বৈশাখ এলেই চাহিদা বাড়ে। তাই দামও বাড়ে। তবে এত বেশি আগে বাড়েনি।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


Sunday, April 5, 2026

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত

 



যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেনের একচ্ছত্র প্রভাবে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টির বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।


ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার। সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মইন, মাসুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার দায়িত্ব ছিল কমিশনের পক্ষে কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।


তারা যেভাবে নির্দেশনা দিতেন তা বাস্তবায়ন করা। সে সময় বিএনপিকে ভাঙার অপচেষ্টার নেতৃত্বও তিনিই দিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হলো ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করতে যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়, সেগুলো তার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল। ব্যালটের ডিজাইনসহ অন্যান্য প্রিন্টিং তথ্য-উপাত্ত লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে তিনি সরবরাহ করেছিলেন।


শেখ মামুন তখন ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ড. এ টি এম শামসুল হুদা ও অপর কমিশনার ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সচিব ছিলেন হুমায়ূন কবির। মইন, মাসুদদের প্রভাবে এই তিনজনকে সব সময় চাপে রাখতেন সাখাওয়াত। সে কারণে সাখাওয়াতের সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কিছুই করার ছিল না।

এ সময় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্পের পিডি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। যুগ্ম সচিব ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কমিশনে এই দুইজনকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়।

সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মইন, মাসুদ ও শেখ মামুনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে যেসব অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলেও একাধিক সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে নানান কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় সরকার বিব্রত হলে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পদত্যাগের হুমকি দেন। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তরে তার কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্যপ্রমাণ থাকার কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা তাকে আর আস্থায় নিতে পারেননি। সে কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো আলোচনায়ও তাকে রাখা হয়নি। অবশ্য কিচেন কেবিনেট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাকে না রাখার ব্যাপারে তিনি নিজেই সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন। সেই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর অন্য উপদেষ্টারা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন যা করেছেন, সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য তিনি অর্ন্তবর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বক্তব্য দিয়ে বিএনপির কাছে ভালো থাকার অপচেষ্টা করেছেন।’

এদিকে অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তার পুত্র এম সাফাক হোসেন মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডেও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল সাফাক হোসেনের। তার নেপথ্য নেতৃত্বেই চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়। এ কাজ করার জন্য অনেক বড় লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালের পরিবহন টার্মিনাল প্রকল্পের মাটি ভরাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য কাজের সব নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন। তালতলা ইয়ার্ড নির্মাণের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন। 

চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেটে ক্যামিক্যাল শেড নির্মাণকাজেও হস্তক্ষেপ করেন সাফাক। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটা সিভিল কাজের জন্য ৫ শতাংশ, ডিপিএমের (সরাসরি টেন্ডার পদ্ধতি) জন্য ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন সাফাক। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মে জড়িত ছিলেন উপদেষ্টাপুত্র। তিনি কাজের ধরনভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। সাখাওয়াতপুত্রের নানান দুর্নীতির খবর এখন চট্টগ্রাম বন্দরে সবার মুখে মুখে। এসব অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন




Tuesday, March 24, 2026

আজ গণহত্যার বিভীষিকাময় কালরাত

 

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৭১ সালের এইদিন শেষে এক বিভীষিকাময় কালরাত নেমে এসেছিল। ওইদিন মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একাধিক গণকবর খুঁড়ে শত শত মৃতদেহ মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর বুলডোজার চালিয়েছিল। ঢাকার অন্যান্য এলাকায়ও একইভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। শুধু ঢাকা নয়; চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, যশোর, রংপুর, সৈয়দপুর ও সিলেটেও চলেছিল সামরিক অভিযান।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সূর্যোদয় হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণে হত্যাযজ্ঞের ভয়ানক রাতের রক্ত আর ধ্বংসের চিহ্ন নিয়ে। ২৫ মার্চ এক রাতেই ঢাকায় হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানার ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ শহরজুড়ে একযোগে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যাযজ্ঞের সেই সেনা অভিযানকে তারা সাংকেতিক নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। সেই রাত থেকেই সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাঙালি। এরপর ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা লেখা হয়েছিল একটি সাধারণ কাঠপেনসিল দিয়ে। ২৫ মার্চ অভিযান চালানোর এক সপ্তাহ আগে এর পরিকল্পনা করেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। এ অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার লিখিত নথি রাখা হয়নি।

 গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। অনেক পরে, ২০১২ সালে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ শিরোনামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত সেই আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ কীভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। 

প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি।’ পরদিন সকালেই খাদিম হোসেন রাজা তার কার্যালয়ে রাও ফরমান আলিকে নিয়ে বসেন। তারাই গণহত্যার এ অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার জনকে। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর পুরো পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করল ঘরবাড়ি, দোকানপাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হলো। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। পুরো বাংলাদেশ হয়ে উঠল শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’ এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করতে শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।

সেদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

ঢাকার ইপিআর সদরদপ্তর পিলখানায় থাকা ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাংক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ-সংক্রান্ত বিবরণ পাওয়া যায়। সেই বইয়ে তিনি জানিয়েছেন, জেনারেল রাও ফরমান আলী হালকা নীল কাগজের অফিশিয়াল প্যাডের ওপর একটি সাধারণ কাঠপেনসিল দিয়ে পরিকল্পনার খসড়া লিখেছিলেন। সেই লেখা সিদ্দিক সালিক নিজের চোখে দেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে গবেষকরা মনে করেন, কাঠপেনসিল দিয়ে লেখা হয়েছিল, যাতে প্রমাণ বা দলিল হিসেবে তা না থাকে। কারণ, কাঠপেনসিলের লেখা দ্রুত নষ্ট করে ফেলা সম্ভব। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজির পাশেই ছিলেন।

বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসেবে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি লিখেন ‘নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল।

 নরকের দরজা খুলে গেল।’ পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

পালিত হচ্ছে না ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি: যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে এবার ২৫ মার্চ রাতে সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালিত হচ্ছে না। সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এ ব্ল্যাকআউট পালনের কথা জানালেও গতকাল মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আরেক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে সরকার।

এদিকে আজ ভয়াল কালরাত উপলক্ষে গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

‘গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব’: এদিকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির মতো নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ২০ মার্চ প্রতিনিধি পরিষদে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন পরিষদের সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। প্রস্তাবটি বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শুরু হওয়া অপারেশন সার্চলাইটের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থি সহযোগীরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে সব ধর্মের বাঙালিরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেও বিশেষভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়। প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এ স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল।’

আলোকসজ্জা নয়: গণহত্যা দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন-স্থাপনায় কোনো অবস্থাতেই ২৫ মার্চ রাতে আলোকসজ্জা করা যাবে না। জ্বালানিসংকট মাথায় রেখে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে দেড় যুগেরও বেশি সময় পর এ বছর ফিরছে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ। এরই মধ্যে কয়েক দফা মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি ঝালাই করেছেন সেনা-নৌ-বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থল ও আকাশে নানা কৌশলগত প্রদর্শনীতে ফুটে উঠবে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস কেন্দ্র করে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রত্যয়ী শপথে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রহরীরা। প্যারেডে অংশ নেবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্যারেডে এবার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হক।

Source : Kal Bela



Thursday, March 5, 2026

জ্বালানি সাশ্রয়ে বাড়বে লোডশেডিং

 


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এর সার উৎপাদন। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় গতকাল সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হয়।



এই অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে বিডিং এ সাড়া পাওয়া গিয়েছে। আশা করা হচ্ছে এই এলএনজি পেলে এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্বের মতো আবার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস আমদানি ঝুঁকিতে পড়েছে।

এই অবস্থায় সরবরাহ সংকটের কথা মাথায় রেখে পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে রেশনিং শুরু করেছে। গত বুধবার থেকে এই সরবরাহ রেশনিং শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদ্যুৎ ও সারে রেশনিং করার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমিয়েছি।



তবে এরই মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য পেট্রোবাংলা ৪ মার্চ ডাকা বিডিংয়ে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের ব্যাপারে সাড়া পেয়েছে। এটি হয়ে গেলে রেশনিং করার আর প্রয়োজন হবে না। এই দুটি কার্গো অস্ট্রেলিয়া ও ইউএসএ থেকে কেনা হবে। আমাদের আগামী ১৫ ও ১৮ মার্চের এলএনজি নিয়ে সমস্যা ছিল। এই দুই কার্গো পাওয়া গেলে সমস্যা আর থাকবে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতে আগে ৮৭০ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো রেশনিংয়ের কারণে, এখন ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ছাড়া বাকি সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ এখন বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারলে এগুলো আবার চালু করা হবে। সারে এখন ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। 



বুধবার সরকারি নির্দেশনার পর সিইউএফএল ও কাফকোর সার উৎপাদন স্থগিত করা হয়। সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর কারখানাটিতে দিনে ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। আর কাফকোর দিনে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত আছে। শাহজালালে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে মার্চে ৯টি, এপ্রিল ১১টি এবং মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ কার্গো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসার কথা। এক কার্গোতে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকে। যা বাংলাদেশের একদিনের চাহিদার থেকেও কম। দেশি উৎস থেকে পাওয়া কমবেশি ১৭১৪ মিলিয়নের সঙ্গে ৮০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন





Tuesday, February 17, 2026

শপথ নিলেন ২৪ প্রতিমন্ত্রী

 


দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনের পর আজ (মঙ্গলবার) থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যস্ত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

তার সঙ্গে শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার আরো ৪৯ জন সদস্য। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এবারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন— এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক, মীর মোহম্মদ হেলালউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ। 

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজিব আহসান, আবদুল বারি, মীর শাহে আলম, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।  

সূত্র: কালের কণ্ঠ





Thursday, January 29, 2026

নারীরা কখনো জামায়াতের প্রধান হতে পারবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

 

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও আলজাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দলের প্রধান (আমির) পদে কোনো নারী কখনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তিনি বলেন, এটা ঈশ্বরপ্রদত্ত সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, দল এখনো প্রস্তুতি নিচ্ছে—ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারটিতে জামায়াতের উত্থান, ইসলামী আইন প্রয়োগ, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, ১৯৭১-এর ভূমিকা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট


আল জাজিরা : নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে কথা বলছি এবং সব হিসাব অনুযায়ী আপনার দল হয়তো তার ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো করবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? কারণ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, আপনার নেতারা বলেছেন যে আপনারা চান এই দেশ ইসলামি আইন দ্বারা পরিচালিত হোক।

জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

শফিকুর রহমান : আপনি একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা বর্তমান দেশের আইনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। জনগণের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করব। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করব না।

আল জাজিরা : আপনি জনগণের ইচ্ছার কথা বলছেন, কিন্তু গত বছরের জুলাই মাসে এক জনসভায় আপনার দলের সহসভাপতি মুজিবুর রহমান, যেখানে আপনিও উপস্থিত ছিলেন, বলেছিলেন ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে শুধু ইসলামি আইন মানা উচিত এবং মানুষের বানানো কোনো ধারণা বা ব্যবস্থা সেখানে থাকা উচিত নয়।

শফিকুর রহমান : এ ক্ষেত্রে দলের প্রধানের বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত।

আল জাজিরা : আপনি বলছেন দলের প্রধানের বক্তব্যই অনুসরণ করবেন। তাহলে কি আপনি তার কথাকে প্রত্যাখ্যান করছেন?

শফিকুর রহমান : না, না। আমি কিছুই প্রত্যাখ্যান করছি না বা গ্রহণ করছি না। তবে যখন দলের কৌশল বিবেচনা করা হবে, তখন দলের প্রধান যা বলবেন সেটাই দেখা হবে। ইসলাম যে মূল্যবোধগুলো স্বীকৃতি দেয়, আমরা তা প্রচার করছি; যেমন—দুর্নীতি বিরোধিতা, সর্বত্র স্বচ্ছতা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার রক্ষা।

ইসলামী আইন চালুর প্রশ্নে

আল জাজিরা : যদি ক্ষমতায় আসেন, তাহলে কি ইসলামী আইন চালু করবেন?

শফিকুর রহমান : যদি দেশের উন্নতির জন্য তা অপরিহার্য হয়, তাহলে সংসদ বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেবে। আমি নই। সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে।

নারীদের কর্মঘণ্টা প্রসঙ্গে

আল জাজিরা : আপনি প্রস্তাব করেছিলেন নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর, কারণ কোরআনের নীতির আলোকে তারা তাদের সন্তানদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। একবিংশ শতাব্দীতে আপনি কেন এমন প্রস্তাব দিলেন? শফিকুর রহমান: কে বলেছে? না আমি এমন কথা বলিনি।

আল জাজিরা : এটা আপনার দেওয়া প্রস্তাব, যা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। শফিকুর রহমান : না, না। আমি যা বলেছি তা হলো— একজন মা একই সময়ে সন্তান বহন করছেন, সন্তানকে দেখাশোনা করছেন, আর একই সময়ে পুরুষদের মতো সমান দায়িত্ব ও সমান সময় কাজ করছেন— এটা ন্যায়সংগত নয়। অন্তত স্তন্যদানকালীন সময়ে, যখন তিনি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন বা সন্তান লালন করছেন, তখন তাকে সম্মান দেখাতে হবে।

আল জাজিরা : কিন্তু ইতোমধ্যেই মাতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ আছে, যা অনেক নারী গ্রহণ করেন। শফিকুর রহমান : শুধু ছয় মাসের জন্য। হ্যাঁ। আমরা মনে করি এটা যথেষ্ট নয়। একটি শিশু ছয় মাসে বড় হয়ে ওঠে না।

আল জাজিরা : ঠিক আছে, কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন আপনার প্রস্তাব ভিন্নভাবে গৃহীত হয়েছে। এ নিয়ে আসলে প্রতিবাদ হয়েছে। বাংলাদেশের নারীসহ মানুষজন রাস্তায় নেমেছে। তারা বলছে, তারা কাজ করবে নাকি ঘরে থাকবে— এটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

শফিকুর রহমান : এটা খুবই নগণ্য, ভাই।

আল জাজিরা : তারা বলছে আপনার প্রস্তাব নারীদের আবার অন্ধকারে ঠেলে দেবে এবং তাদের স্বাধীনতা সীমিত করবে। শফিকুর রহমান : না, অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়। কিছু অ্যাকটিভিস্ট আছেন যাদের আদর্শ আমাদের বিপরীত। তারা রাস্তায় নামতে পারেন। আমরা সম্মান করি।

আল জাজিরা : আপনি জানেন, স্যার, বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে লাখো নারী কাজ করেন, বিশেষ করে পোশাকশিল্পে। ৫০ শতাংশেরও বেশি নারী। তারা সেখানে পৌঁছাতে দশকের পর দশক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তারা সেই ধারণার বিরুদ্ধে লড়েছে যে নারীদের শুধু মা হতে হবে এবং সন্তান দেখাশোনা করতে হবে। পুরুষরাও সেই দায়িত্ব নিতে পারে। আর আশঙ্কা হলো আপনার প্রস্তাব সময়কে পিছিয়ে দিচ্ছে, ফলে নিয়োগকর্তারা নারীদের নিয়োগ দিতে চাইবে না কারণ তাদের কর্মঘণ্টায় সীমাবদ্ধতা থাকবে।

শফিকুর রহমান : এটা আপনার উদ্বেগ, কিন্তু বাস্তবতা নয়। আমি আমার বক্তব্যের পর কয়েকটি পোশাকশিল্প পরিদর্শন করেছি। আমি কোথাও এমন কিছু দেখিনি। বরং তারা স্বস্তি অনুভব করেছে। হ্যাঁ, তারা বলেছে দুই বা আড়াই বছর পর আবার কাজে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। কিন্তু যখন তারা চাকরি ছেড়ে দেয়, তখন আর ফিরে আসে না।

নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেওয়া

আল জাজিরা : আপনি বলেন যে আপনি নারীদের সম্মান করেন এবং বিশ্বাস করেন যে নারীরা নেতৃত্বের অবস্থানে উঠতে পারে। আমি কি জানতে পারি এই সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কতজন নারী প্রার্থী দিয়েছে?

শফিকুর রহমান : না, একজনও নয়। তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি যেখানে আমাদের বোনেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা সংসদেও তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আল জাজিরা : কিন্তু নিশ্চয়ই অন্য কোনো দলে শূন্য নয়। কেন অন্তত একজন নারী প্রার্থীও নেই...

শফিকুর রহমান : উত্তর হলো আমরা তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এ বিষয়ে আমরা তাদের প্রতি অসম্মানজনক নই।

জামায়াতের প্রধান পদে নারী অসম্ভব

আলজাজিরা : জামায়াতের প্রধানের পদ নিয়ে কী বলবেন? কোনো নারী কি একদিন আপনার জায়গা নিতে পারে? 

শফিকুর রহমান : এটা সম্ভব নয়। সম্ভব নয়। কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে তাদের নিজস্ব সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। আপনি কখনও সন্তান জন্ম দিতে পারবেন না। আমরা কখনও সন্তানকে স্তন্যপান করাতে পারব না। এটা আল্লাহ প্রদত্ত। আর পুরুষ ও নারীর মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।

আল জাজিরা : আমি বুঝতে পারছি না। প্রথমত, সব নারী মা হতে চান বা হবেন এমন নয়। কিন্তু হলেও, সন্তান লালন-পালন করলেও, কেন তারা জামায়াতের মতো একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে পারবেন না?

শফিকুর রহমান : কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তারা সীমিত থাকবেন। কীভাবে? অসুবিধা আছে। আপনি জানেনই। আমরা তা অস্বীকার করতে পারি না। একজন মা যিনি সন্তান জন্ম দেবেন, তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন? এটা সম্ভব নয়। কখনও নয়। আল্লাহই সবকিছু ভালো জানেন।

আল জাজিরা : এটা বেশ বিস্ময়কর যে আপনি এমন দেশে এটা বলছেন যেখানে গত তিন দশক ধরে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

শফিকুর রহমান : আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিনি। আমি আগেই বলেছি আমরা অসম্মানজনক নই। হ্যাঁ। কিন্তু যদি আপনি বিশ্বে তাকান, উন্নত দেশগুলোতে কতজন নারী সামনে এসেছে?

আল জাজিরা : অদ্ভুত। আপনি বলছেন তারা কোনো সংগঠনের প্রধান হতে পারে না অথচ তারা ১৬০–১৭০ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে? তাহলে স্পষ্টতই নারীরা নেতৃত্বের অবস্থানে সক্ষম। 
শফিকুর রহমান : বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এটাকে সম্ভব মনে করেনি। এটাই বিশ্বের বাস্তবতা।

আল জাজিরা : অনেক দেশে নারী নেতা ছিলেন, আপনার দেশসহ। 

শফিকুর রহমান : তবে অল্প কয়েকটি দেশে।

বিএনপি জোট সরকার ও নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে

আল জাজিরা : আপনি আসলে বিএনপির সঙ্গে একটি সরকারে ছিলেন। আপনি একটি জোট সরকারের অংশ ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া একজন নারী, তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। হ্যাঁ। আপনি কি মনে করেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভালো কাজ করেছেন? 

শফিকুর রহমান : এটা আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। আমাদের উচিত তাদের দলের মতামতকে সম্মান করা। আমরা কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না।

মিডিয়া স্বাধীনতা ও ছাত্রসংগঠন প্রসঙ্গে

আল জাজিরা : শফিকুর রহমান, শুধু লিঙ্গ অধিকার নয়। আশঙ্কা হলো জামায়াতের উত্থান সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আপনার ছাত্রনেতারা গত মাসে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে, যেগুলো পরে আক্রান্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াত ছাত্র সংগঠনের নেতা মোস্তাকুর রহমান এক সমাবেশে বলেছিলেন— আমরা ঘোষণা করছি তথাকথিত সংবাদপত্রগুলো, যেমন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বন্ধ করে দিতে হবে। 

যদি এসব পত্রিকার কোনো সাংবাদিক এখানে উপস্থিত থাকেন, তবে তারা যেন অবিলম্বে চলে যান। আরেকজন জামায়াত ছাত্রনেতা, যিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন, তিনি বারবার বলেছেন— ছায়ানট ও উদীচী, এই দুটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে হবে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য।

শফিকুর রহমান : আপনি এসব বক্তব্য লক্ষ করেছেন, কিন্তু জামায়াতে ইসলামী দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য লক্ষ করেননি। আমরা ইতোমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। আমরা নিন্দা করেছি এবং কখনও সমর্থন করিনি।

আল জাজিরা : কিন্তু এসব নেতাদের বিরুদ্ধে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? শফিকুর রহমান : শিবির ব্যবস্থা নেবে। এটা আমাদের সরাসরি সংগঠন নয়। এটা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিষয়। দয়া করে তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন।

সংখ্যালঘু ও ১৯৭১ প্রসঙ্গে

আল জাজিরা : স্যার, আমি জানতে চাই, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কী হবে? আমি জানি আপনি বলেছেন সব ধর্মকে সমানভাবে দেখা হবে, কিন্তু জামায়াতের অতীত রেকর্ড তো অন্যরকম দেখায়, তাই না? শফিকুর রহমান : কোন রেকর্ড?

আল জাজিরা : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যখন আপনি এবং বিএনপি ২০০১–২০০৬ সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন, তখন হিন্দুদের ওপর হামলা ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হামলাকারীরা বিএনপি ও জামায়াতের সদস্য ছিল। শফিকুর রহমান : আমরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। জামায়াতে ইসলামী থেকে কেউ এমন ধরনের ভাঙচুর বা হামলায় জড়িত ছিল না।

আল জাজিরা : আপনি কি জামায়াতের কোনো ভূমিকা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন? শফিকুর রহমান : হ্যাঁ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এবং আমরা বহুবার খুব স্পষ্টভাবে এটা বলেছি। এখনো বলছি।

আল জাজিরা : জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের বিদ্রোহের পর সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় জামায়াত ও বিএনপির কিছু সমর্থক প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িত ছিল। শফিকুর রহমান : আমি এটা প্রত্যাখ্যান করছি।

আল জাজিরা : আপনি কি কিছুটা অস্বীকার করছেন? আমি আপনাকে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার দুটি ভিন্ন সময়ের মানবাধিকার প্রতিবেদন উল্লেখ করেছি, আর আপনি বলছেন সবই মিথ্যা। শফিকুর রহমান : হ্যাঁ, হ্যাঁ। সব মিথ্যা। না, আমি বলছি না সব মিথ্যা। বাস্তবতা আছে। হামলা হবে। কিন্তু আমরা এতে জড়িত নই। দয়া করে তারা যেন নির্দিষ্টভাবে বলে কারা জড়িত ছিল, আমরা ব্যবস্থা নেব।

আল জাজিরা : জামায়াত তো বিশাল নেতিবাচক ঐতিহাসিক বোঝা বহন করছে, তাই না? ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ নিহত, ৩ লাখ নারী ধর্ষিত হয় পাক বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা। আপনার অনেক নেতা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এটা কি খুবই অন্ধকারময় উত্তরাধিকার নয়?

শফিকুর রহমান : হ্যাঁ, আপনি আমাকে অনেক কঠিন প্রশ্ন করছেন। এটাও একটি। দয়া করে অতীতে তাকান। তখন কী হয়েছিল? জামায়াতে ইসলামী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এটা কোনো সশস্ত্র বাহিনী ছিল না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা, স্বাধীনতার বিরোধিতা করা নয়। তখন পাকিস্তান ছিল ঐক্যবদ্ধ। কেন আমরা এটা করেছিলাম? তখন জামায়াতের নেতারা মনে করেছিলেন, ভারতের সাহায্যে যদি পাকিস্তান ভেঙে যায় বা স্বাধীনতা হয়, তাহলে সেটা বাংলাদেশের ওপর আরেকটি আধিপত্য হবে— যা আমরা গত ৫৪ বছর ধরে দেখছি।

যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে

আল জাজিরা : স্যার, আমি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করছি না। আমি যুদ্ধাপরাধ নিয়ে প্রশ্ন করছি। শফিকুর রহমান : হ্যাঁ, আমি এদিকে আসছি। আমরা সেই সময়ে কোনো অপরাধে জড়িত ছিলাম না।

আল জাজিরা : আপনি বলবেন, আদালত কেন এমন রায় দিয়েছে? মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কেন হলো? শফিকুর রহমান : এটা সম্পূর্ণ বিকৃত ও বিতর্কিত বিচার ছিল। এটা ছিল ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা।

আল জাজিরা : কেন এবং কীভাবে? শফিকুর রহমান : একই আদালত, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর আমাদের একজন নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের একটি মুলতবি মামলার রায় দিয়েছে এবং তারা আগের রায়ের ওপর অনেক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং অযৌক্তিক ছিল।

আল জাজিরা: ঠিক আছে, কিন্তু আমি কি এটা জিজ্ঞেস করতে পারি? ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে, কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে নৃশংসতার যোগসূত্রের অস্বীকারযোগ্য প্রমাণ নেই কি? আন্তর্জাতিক আইনজীবী কমিশন ১৯৭২ সালে বলেছিল, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েক দিন আগে শত শত বাঙালি বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল একটি প্যারামিলিটারি বাহিনী, যা জামায়াতের অংশ বলে বিশ্বাস করা হয়।

 নিউইয়র্ক টাইমসের ১৯৭১ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নতুন প্যারামিলিটারি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে জামায়াতের অনুসারীরাও ছিল। আমি এমন আরও অনেক সূত্র উল্লেখ করতে পারি।

শফিকুর রহমান : হ্যাঁ, আমি এই বিষয়ে আসছি। দেখুন। সেই সময়ে কিছু বাহিনী ছিল— সেনাবাহিনী ছিল, প্যারামিলিটারি ছিল। এগুলো পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা, অন্য কারও দ্বারা নয়, কোনো সংগঠনের দ্বারাও নয়।

আল জাজিরা : কিন্তু জামায়াত তো সেই প্যারামিলিটারির অংশ ছিল, যারা এসব নৃশংসতা চালিয়েছে। শফিকুর রহমান : আমি আপনাকে উত্তর দিচ্ছি। যদি কেউ তখন কোনো নৃশংসতায় জড়িত থাকত, তাহলে কেন তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের হয়নি? এমনকি পূর্ব পাকিস্তানের কোনো থানায় বা স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও হয়নি। কেন হয়নি?

আল জাজিরা : তাহলে আপনি কি বলছেন এসব বিবরণ সবই মিথ্যা? কেন ৪০ বছর পর এগুলো সামনে এলো? তাহলে কি আপনি বলছেন আন্তর্জাতিক আইনজীবী কমিশন, নিউ ইয়র্ক টাইমস— সবই মিথ্যা? শফিকুর রহমান : তখন প্রমাণগুলো ছিল নতুন, সাক্ষীরা জীবিত ছিলেন এবং স্মৃতি ছিল খুবই স্পষ্ট। কিন্তু একজন নেতাকেও এ জন্য অভিযুক্ত করা হয়নি। কেন?

আল জাজিরা : কখনও কখনও, মি. রহমান, কোনো দেশের অতীত অপরাধের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বহু বছর লাগে। অনেক সময় পেরিয়ে গেছে বলে ব্যক্তিদের বা সংগঠনকে অপরাধ থেকে মুক্ত করে না। শফিকুর রহমান : তখন শেখ মুজিব প্রায় চার বছর দেশ শাসন করেছিলেন। এবং তিনি যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা করেছিলেন এবং তারা সবাই পাকিস্তানি পুরুষ ছিলেন, পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের কেউ ছিলেন না।

আল জাজিরা : স্যার, আপনি গত বছর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন— যদি ১৯৪৭ থেকে জামায়াতে ইসলামী কারও ক্ষতি করে থাকে, আমি সব ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাই। শফিকুর রহমান : হ্যাঁ।

আল জাজিরা : এতে মনে হচ্ছে আপনি স্বীকার করছেন যে একটি সমস্যা আছে। জামায়াতের কিছু সম্পৃক্ততা বা জড়িত আছে। না হলে আপনি কেন এমন বলবেন? শফিকুর রহমান : এটা অনুমানের বিষয় নয়। বরং আমরা মানুষের দ্বারা গঠিত সংগঠন। তাই মানুষ ভুল করতে পারে।

আল জাজিরা : ৭১-এর নৃশংসতাও? শফিকুর রহমান: ভুল আর নৃশংসতা এক নয়। আমি কখনও নৃশংসতা বলিনি। আমি বলেছি ভুল। তাই আমি ক্ষমা চাই এবং এটা চালিয়ে যাব

তরুণদের প্রত্যাশা ও জামায়াতের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে

আল জাজিরা : আমার শেষ প্রশ্ন আপনাকে, স্যার। এই নির্বাচন পরিবর্তনের জন্যই, বিশেষ করে লাখো তরুণ যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের অংশ নেয়। তারা পরিবর্তন দেখতে চায়। কিন্তু আমরা যা কিছু আলোচনা করেছি— নারীদের প্রসঙ্গ, সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গ, সবকিছু আপনি কি বিশ্বাস করেন যে জামায়াত বাংলাদেশে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে?

শফিকুর রহমান : জনগণকে বিষয়টি সিদ্ধান্ত নিতে দিন। আমি আপনাকে একটি সহজ উদাহরণ দিতে পারি। ঠিক আছে। পাঁচটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সেখানে মেয়েরা আছে, ছেলেরাও আছে এবং তারা যথেষ্ট সচেতন। তারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষে রায় দিয়েছে। কেন? আমাদের ছাত্র সংগঠনের পক্ষে? ইসলামী ছাত্রশিবির। কেন? কেন? তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা তাদের মাধ্যমে পূর্ণ হবে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের মেয়েদের মর্যাদা, সম্মান ও গোপনীয়তা ইসলামী ছাত্রশিবির রক্ষা করবে। এই খাতের সচেতন মানুষ জাতিকে যে বার্তা দিয়েছে, আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি।

সূত্র : ইত্তেফাক


Search This Blog

Powered by Blogger.