Tuesday, March 24, 2026

আজ গণহত্যার বিভীষিকাময় কালরাত

 

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৭১ সালের এইদিন শেষে এক বিভীষিকাময় কালরাত নেমে এসেছিল। ওইদিন মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একাধিক গণকবর খুঁড়ে শত শত মৃতদেহ মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর বুলডোজার চালিয়েছিল। ঢাকার অন্যান্য এলাকায়ও একইভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। শুধু ঢাকা নয়; চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, যশোর, রংপুর, সৈয়দপুর ও সিলেটেও চলেছিল সামরিক অভিযান।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সূর্যোদয় হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণে হত্যাযজ্ঞের ভয়ানক রাতের রক্ত আর ধ্বংসের চিহ্ন নিয়ে। ২৫ মার্চ এক রাতেই ঢাকায় হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানার ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ শহরজুড়ে একযোগে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যাযজ্ঞের সেই সেনা অভিযানকে তারা সাংকেতিক নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। সেই রাত থেকেই সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাঙালি। এরপর ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা লেখা হয়েছিল একটি সাধারণ কাঠপেনসিল দিয়ে। ২৫ মার্চ অভিযান চালানোর এক সপ্তাহ আগে এর পরিকল্পনা করেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। এ অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার লিখিত নথি রাখা হয়নি।

 গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। অনেক পরে, ২০১২ সালে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ শিরোনামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত সেই আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ কীভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। 

প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি।’ পরদিন সকালেই খাদিম হোসেন রাজা তার কার্যালয়ে রাও ফরমান আলিকে নিয়ে বসেন। তারাই গণহত্যার এ অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার জনকে। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর পুরো পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করল ঘরবাড়ি, দোকানপাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হলো। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। পুরো বাংলাদেশ হয়ে উঠল শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’ এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করতে শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।

সেদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

ঢাকার ইপিআর সদরদপ্তর পিলখানায় থাকা ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাংক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ-সংক্রান্ত বিবরণ পাওয়া যায়। সেই বইয়ে তিনি জানিয়েছেন, জেনারেল রাও ফরমান আলী হালকা নীল কাগজের অফিশিয়াল প্যাডের ওপর একটি সাধারণ কাঠপেনসিল দিয়ে পরিকল্পনার খসড়া লিখেছিলেন। সেই লেখা সিদ্দিক সালিক নিজের চোখে দেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে গবেষকরা মনে করেন, কাঠপেনসিল দিয়ে লেখা হয়েছিল, যাতে প্রমাণ বা দলিল হিসেবে তা না থাকে। কারণ, কাঠপেনসিলের লেখা দ্রুত নষ্ট করে ফেলা সম্ভব। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজির পাশেই ছিলেন।

বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসেবে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি লিখেন ‘নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল।

 নরকের দরজা খুলে গেল।’ পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

পালিত হচ্ছে না ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি: যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে এবার ২৫ মার্চ রাতে সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালিত হচ্ছে না। সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এ ব্ল্যাকআউট পালনের কথা জানালেও গতকাল মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আরেক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে সরকার।

এদিকে আজ ভয়াল কালরাত উপলক্ষে গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

‘গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব’: এদিকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির মতো নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ২০ মার্চ প্রতিনিধি পরিষদে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন পরিষদের সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। প্রস্তাবটি বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শুরু হওয়া অপারেশন সার্চলাইটের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থি সহযোগীরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে সব ধর্মের বাঙালিরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেও বিশেষভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়। প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এ স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল।’

আলোকসজ্জা নয়: গণহত্যা দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন-স্থাপনায় কোনো অবস্থাতেই ২৫ মার্চ রাতে আলোকসজ্জা করা যাবে না। জ্বালানিসংকট মাথায় রেখে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে দেড় যুগেরও বেশি সময় পর এ বছর ফিরছে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ। এরই মধ্যে কয়েক দফা মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি ঝালাই করেছেন সেনা-নৌ-বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থল ও আকাশে নানা কৌশলগত প্রদর্শনীতে ফুটে উঠবে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস কেন্দ্র করে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রত্যয়ী শপথে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রহরীরা। প্যারেডে অংশ নেবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্যারেডে এবার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হক।

Source : Kal Bela



Monday, March 16, 2026

গরমে ডায়রিয়া হলে


 



গরম এলেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। 
হাসপাতালগুলোতে বাড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত নানা বয়সের রোগীর ভিড়। দুই বছরের নিচে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হলো–রোটা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। 

ডায়রিয়া কী
সাধারণত পরিপাকতন্ত্রে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণেই ডায়রিয়া হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এ সময় ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ভাইরাস, কখনও কখনও নোরো ভাইরাস। তবে পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে বা প্রবল জ্বর দেখা দিলে তা ভাইরাস নয়, বরং ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

যে কারণে হয়
অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিকভাবে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ সময় দোকান, রেস্তোরাঁ বা বাসায় ফ্রিজের খাবারে পচন ধরা খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। 

যা করণীয়

ডায়রিয়া হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় এবং রক্তে লবণের তারতম্য দেখা দেয়। এ দুটিকে রোধ করাই ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসা।
প্রাথমিক পরিচর্যা
প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী পরিমাণমতো খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া ডাবের পানি, ঘরে তৈরি তরল খাবার যেমন–ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, তাজা ফলের রস ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। স্বাভাবিক খাবারও পাশাপাশি চালিয়ে যেতে হবে। বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি বুকের দুধও খাবে। 

ডায়রিয়ার জটিলতা
পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত, জ্বর, প্রচণ্ড পেট ব্যথা বা কামড়ানো, পিচ্ছিল মল, মলত্যাগে ব্যথা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া বা জিভ ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, রোগীর মধ্যে অশান্তি বা নিস্তেজ ভাব পানিশূন্যতার লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বা বমির কারণে পর্যাপ্ত স্যালাইন না খেতে পারলে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। 

ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়
lরাস্তাঘাটের শরবত, পানি, খাবার ইত্যাদি পরিহার করতে হবে, 
lপচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না,
lহাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাবার খেতে হবে,
lছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে,
lখাবার তৈরি ও শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং মলত্যাগের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
lসব সময় সেদ্ধ করে পানি ব্যবহার করতে হবে।  
lপাকা পায়খানা বা স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে।  


[অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ]


সূত্র; সমকাল


Thursday, March 5, 2026

জ্বালানি সাশ্রয়ে বাড়বে লোডশেডিং

 


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এর সার উৎপাদন। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় গতকাল সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হয়।



এই অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে বিডিং এ সাড়া পাওয়া গিয়েছে। আশা করা হচ্ছে এই এলএনজি পেলে এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্বের মতো আবার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস আমদানি ঝুঁকিতে পড়েছে।

এই অবস্থায় সরবরাহ সংকটের কথা মাথায় রেখে পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে রেশনিং শুরু করেছে। গত বুধবার থেকে এই সরবরাহ রেশনিং শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদ্যুৎ ও সারে রেশনিং করার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমিয়েছি।



তবে এরই মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য পেট্রোবাংলা ৪ মার্চ ডাকা বিডিংয়ে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের ব্যাপারে সাড়া পেয়েছে। এটি হয়ে গেলে রেশনিং করার আর প্রয়োজন হবে না। এই দুটি কার্গো অস্ট্রেলিয়া ও ইউএসএ থেকে কেনা হবে। আমাদের আগামী ১৫ ও ১৮ মার্চের এলএনজি নিয়ে সমস্যা ছিল। এই দুই কার্গো পাওয়া গেলে সমস্যা আর থাকবে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতে আগে ৮৭০ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো রেশনিংয়ের কারণে, এখন ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ছাড়া বাকি সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ এখন বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারলে এগুলো আবার চালু করা হবে। সারে এখন ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। 



বুধবার সরকারি নির্দেশনার পর সিইউএফএল ও কাফকোর সার উৎপাদন স্থগিত করা হয়। সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর কারখানাটিতে দিনে ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। আর কাফকোর দিনে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত আছে। শাহজালালে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে মার্চে ৯টি, এপ্রিল ১১টি এবং মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ কার্গো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসার কথা। এক কার্গোতে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকে। যা বাংলাদেশের একদিনের চাহিদার থেকেও কম। দেশি উৎস থেকে পাওয়া কমবেশি ১৭১৪ মিলিয়নের সঙ্গে ৮০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন





Tuesday, March 3, 2026

বিপদে যুক্তরাষ্ট্র! 'ফুরিয়ে আসছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত'

 




ইরান ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা হামলার কারণে মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত কমে আসছে। এতে পেন্টাগন সামরিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।



একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, এসএম থ্রি ইন্টারসেপ্টরের মতো সমরাস্ত্রের মজুত কমে গেছে। ধারাবাহিক ব্যবহারের ফলে রিজার্ভ কমে যাওয়ায় পরবর্তী ধাপের হামলা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।



মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা দুর্বল করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ইরানের ভেতরে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা, ড্রোন তৈরির কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে গিয়ে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের বড় অংশ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এখন ইরানের দিক থেকে আসা হামলা প্রতিরোধে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম দাবি করেছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের ১১টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। রবিবার রাতে মার্কিন বি টু স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের সুরক্ষিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।



এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রেরও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত, ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি বলেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক ট্রু প্রমিজ ফোর অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন।



আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেছেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর, যুদ্ধজাহাজে হামলার পর ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

নায়েইনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হতাহতের তথ্য গোপন করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

বিডি প্রতিদিন/আশিক



Wednesday, February 18, 2026

স্কুল বন্ধ, টানা ৩৮ দিন ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা

 

সংগৃহীত ছবি



শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দাবির প্রেক্ষিতে রমজানে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) স্কুলের ছুটির তালিকা সংশোধন করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে নিম্ন মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এই ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত।




২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি কাটাতে পারবেন।


গত রবিবার এক রিট মামলার শুনানি শেষে পুরো রোজার মাস স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল। সেই আপিলে আগের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় ছুটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও শিবরাত্রী ব্রত উপলক্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলো টানা পাঁচ দিন বন্ধ ছিল। গত সোমবার থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে।

তবে নির্বাচনের ছুটির মধ্য দিয়ে মাদরাসাগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটি শুরু করেছেন। মাদরাসার ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি চলবে।



এদিকে কলেজের ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বুধবার থেকে কলেজগুলোয় ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৯ মার্চ থেকে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


Tuesday, February 17, 2026

শপথ নিলেন ২৪ প্রতিমন্ত্রী

 


দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনের পর আজ (মঙ্গলবার) থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যস্ত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

তার সঙ্গে শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার আরো ৪৯ জন সদস্য। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এবারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন— এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক, মীর মোহম্মদ হেলালউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ। 

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজিব আহসান, আবদুল বারি, মীর শাহে আলম, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।  

সূত্র: কালের কণ্ঠ





Monday, February 16, 2026

হাইকোর্টের রায় স্থগিত, রমজান মাসেও খোলা থাকছে স্কুল



পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আজ সোমবার এ স্থগিতাদেশ দেন।

এর ফলে রোজার মাসে স্কুল খোলা রাখতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। পাশাপাশি নিয়মিত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।

এর আগে রোববার পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জনস্বার্থে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

মাদরাসাগুলোয় ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে অর্থাৎ রমজান শুরুর আগে থেকে ছুটি শুরু হলেও স্কুলগুলোতে এবার ১৫ই রমজান অর্থাৎ সাতই মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলে। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অনেক শিক্ষক।

গত পাঁচই জানুয়ারি রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

সূত্র: সমকাল


 

Search This Blog

Powered by Blogger.

আজ গণহত্যার বিভীষিকাময় কালরাত

  আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৭১ সালের এইদিন শেষে এক বিভীষিকাময় কালরাত নেমে এসেছিল। ওইদিন মধ্যরাতে বর্বর পা...