Tuesday, March 3, 2026

বিপদে যুক্তরাষ্ট্র! 'ফুরিয়ে আসছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত'

 




ইরান ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা হামলার কারণে মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত কমে আসছে। এতে পেন্টাগন সামরিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।



একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, এসএম থ্রি ইন্টারসেপ্টরের মতো সমরাস্ত্রের মজুত কমে গেছে। ধারাবাহিক ব্যবহারের ফলে রিজার্ভ কমে যাওয়ায় পরবর্তী ধাপের হামলা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।



মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা দুর্বল করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ইরানের ভেতরে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা, ড্রোন তৈরির কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে গিয়ে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের বড় অংশ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এখন ইরানের দিক থেকে আসা হামলা প্রতিরোধে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম দাবি করেছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের ১১টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। রবিবার রাতে মার্কিন বি টু স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের সুরক্ষিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।



এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রেরও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত, ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি বলেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক ট্রু প্রমিজ ফোর অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন।



আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেছেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর, যুদ্ধজাহাজে হামলার পর ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

নায়েইনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হতাহতের তথ্য গোপন করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

বিডি প্রতিদিন/আশিক



No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Powered by Blogger.