Showing posts with label লাইফস্টিইল. Show all posts
Showing posts with label লাইফস্টিইল. Show all posts

Monday, April 13, 2026

গরমের দিনে পান্তা ভাতে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

 




বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের অন্যতম পান্তা ভাত। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবেও পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।


এক সময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে পান্তা ভাত দারুণ কাজ করে শরীরে। এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ খাবারে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যারা তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। 

পান্তা ভাতকে অনেকেই শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে মনে করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতেও শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানিয়েছে, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। তিনি জানান,  পান্তা ভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২। 

এ পুষ্টিবিদ আরও জানান, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে যেখানে প্রায় ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ পান্তা ভাতে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়- সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম থাকলেও পান্তা ভাতে তা প্রায় ৮৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তাই গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।


সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


Monday, March 16, 2026

গরমে ডায়রিয়া হলে


 



গরম এলেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। 
হাসপাতালগুলোতে বাড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত নানা বয়সের রোগীর ভিড়। দুই বছরের নিচে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হলো–রোটা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। 

ডায়রিয়া কী
সাধারণত পরিপাকতন্ত্রে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণেই ডায়রিয়া হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এ সময় ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ভাইরাস, কখনও কখনও নোরো ভাইরাস। তবে পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে বা প্রবল জ্বর দেখা দিলে তা ভাইরাস নয়, বরং ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

যে কারণে হয়
অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিকভাবে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ সময় দোকান, রেস্তোরাঁ বা বাসায় ফ্রিজের খাবারে পচন ধরা খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। 

যা করণীয়

ডায়রিয়া হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় এবং রক্তে লবণের তারতম্য দেখা দেয়। এ দুটিকে রোধ করাই ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসা।
প্রাথমিক পরিচর্যা
প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী পরিমাণমতো খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া ডাবের পানি, ঘরে তৈরি তরল খাবার যেমন–ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, তাজা ফলের রস ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। স্বাভাবিক খাবারও পাশাপাশি চালিয়ে যেতে হবে। বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি বুকের দুধও খাবে। 

ডায়রিয়ার জটিলতা
পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত, জ্বর, প্রচণ্ড পেট ব্যথা বা কামড়ানো, পিচ্ছিল মল, মলত্যাগে ব্যথা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া বা জিভ ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, রোগীর মধ্যে অশান্তি বা নিস্তেজ ভাব পানিশূন্যতার লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বা বমির কারণে পর্যাপ্ত স্যালাইন না খেতে পারলে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। 

ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়
lরাস্তাঘাটের শরবত, পানি, খাবার ইত্যাদি পরিহার করতে হবে, 
lপচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না,
lহাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাবার খেতে হবে,
lছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে,
lখাবার তৈরি ও শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং মলত্যাগের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
lসব সময় সেদ্ধ করে পানি ব্যবহার করতে হবে।  
lপাকা পায়খানা বা স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে।  


[অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ]


সূত্র; সমকাল


Wednesday, December 3, 2025

ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে মিষ্টি আলু

 
আজকাল অল্প বয়স থেকেই নানা ক্রনিক রোগ হানা দিচ্ছে। এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অনেক। আমাদের হাতের কাছে এমন কিছু খাবার আছে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মিষ্টি আলু।

মিষ্টি আলুতে রয়েছে ফাইবার, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত মিষ্টি আলু খেলে হার্ট সুস্থ থাকে। এ ছাড়া ফাইবারের কারণে এটি ধীরে পাচিত হয়, পেট দীর্ঘ সময় ভরা রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমাতে রাঙা আলু কার্যকর।

রাঙা আলুতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, যা পরিণত হয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ফলে চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এ ছাড়া এতে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে, যা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ এই আলু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

মিষ্টি আলুতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা হাড়কে মজবুত রাখে। তাই স্বাদে সুস্বাদু এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এই সবজি নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।

সূত্র : আজকাল

Tuesday, October 7, 2025

গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়া কি নিরাপদ?

 

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এসময় সব ধরনের ফল ও সবজি খাওয়া নিরাপদ নয়। খাবারও খেতে হয় খুব বুঝে শুনে। প্রশ্ন হলো- গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়া কি নিরাপদ? 

পুষ্টিবিদরা মনে করেন, গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়া যাবে। এবং এটি এ সময়ের জন্য  নিরাপদ সবজি। কাঁচা কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, একইসঙ্গে স্নায়ু ও পেশী সঞ্চালনে সহায়তা করে। এছাড়া গর্ভবতী নারীর আয়রনের চাহিদা পূরণেও সহায়তা করে কাঁচা কলা। 

কাঁচা কলার অন্যান্য উপকারিতা
গর্ভাবস্থা ও অন্যান্য সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কাঁচা কলা। কারণ কাঁচা কলা আঁশযুক্ত; আর তাই এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ভিটামিন বি৬ গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে টাইপ-টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও সাহায্য করে কাঁচা কলা।

হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতেও কাঁচা কলার জুড়ি নেই। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। আর পটাশিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। উচ্চ রক্তচাপ ও  কিডনির রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পটাসিয়াম গ্রহণ নিরাপদ নয়। তাই এ দুই রোগে আক্রান্ত রোগীরা কাঁচা কলা কম পরিমাণে খান। 

কাঁচা কলা আঁশযুক্ত সবজি। তাই এটি খুব সহজে হজম হয়। এ সবজি পেটের ভেতরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করে। কাঁচা কলায় থাকা বিভিন্ন উপকারী এনজাইম, ডায়রিয়া এবং পেটের নানা ইনফেকশন দূর করে। তাই ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকেরা কাঁচা কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অতিরিক্ত পেট ফোলার সমস্যা, কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে কাঁচা কলা এড়িয়ে চলবেন।

সূত্র : সমকাল


Sunday, September 28, 2025

প্রতিদিন আখরোট খাওয়া কেন উপকারী?

 

বাদাম জাতীয় ফলের মধ্যে অন্যতম আখরোট। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আখরোট নিয়মিত খেলে শরীরে কী কী উপকারিতা পাওয়া যায় তা জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ : আখরোট ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ একটি ফল। নিয়মিত এই ফল খেলে হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। 

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়: আখরোটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়,ফোকাস ঠিক রাখে। 
হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে : আখরোট থাকা নানা পুষ্টি উপাদান খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এতে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। 


পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: আখরোটে থাকা প্রবায়োটিক পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, হজমশক্তি উন্নত করে। 
প্রদাহ কমায় : আখরোটে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমে। 
রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় : আখরোট ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে। এ কারণে এই ফল ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী। 

সূত্র ; অনলাইন ডেস্ক 


Saturday, September 27, 2025

নিজের নাক ডাকার শব্দ নিজে শুনতে পান না কেন

 

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষেরই নাক ডাকার সমস্যা রয়েছে। এটি একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনার পাশে শুয়ে কেউ যদি নাক ডাকে, তাহলে আপনি ঘুমাতে পারবেন না। তবে, যিনি নাক ডাকেন তিনি শান্তিতে ঘুমাতে থাকে এবং তার নিজের নাক ডাকার শব্দ নিজে শোনেন না।

প্রায়ই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, যারা জোরে নাক ডাকেন তারা কেন নিজের নাক ডাক শুনতে পান না? মূলত, এর পেছনে রয়েছে অনেক বৈজ্ঞানিক ও শারীরিক কারণ। তাই আজ আমরা আপনাকে বলব, কেন মানুষ নিজের নাক ডাকার শব্দ নিজে শুনতে পান না এবং এর অর্থ কী হতে পারে।

ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক ঘুমের মধ্যে থাকে। এই সময় আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক একটি শিথিল অবস্থায় থাকে।

তাই আমরা বাইরের শব্দ পুরোপুরি শুনতে পাই না। যখন আপনি নাক ডাকেন, তখন আপনি সেই শব্দ বুঝতে পারেন না, কারণ আপনার মস্তিষ্ক সচেতন থাকে না। নাক ডাকার শব্দ আমাদের কানে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট জোরে ও স্পষ্ট হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা নিজেরাই এই শব্দ তৈরি করি।

আমাদের শরীর এটি অভ্যন্তরীণভাবে শুনতে পায়। তাই বাইরের শব্দ বা পরিবেশ থেকে আসা অন্যান্য শব্দ এটিকে ডুবিয়ে দিতে পারে। এই কারণেই আমাদের সঙ্গে ঘুমানো লোকেরা আমাদের নাক ডাকা শুনতে পায়। কিন্তু আমরা আমাদের নিজস্ব শব্দ বুঝতে পারি না, এমনটাই বলছেন পালমোনোলজিস্ট জি সি খিলনানি।

নাক ডাকা একটি অত্যন্ত অভ্যন্তরীণ শব্দ, যা আমাদের শ্বাসনালী ও গলা থেকে উৎপন্ন হয়।

অতএব, এই শব্দ শরীরের অভ্যন্তরীণ ও সরাসরি আমাদের কানে পৌঁছায় না। এর ফলে নাক ডাকা আমাদের কাছে কম শোনা যায়। কিন্তু বাইরের লোকের কাছে তা আরো জোরে শোনা যায়।

নাক ডাকার তীব্রতা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়। কিছু লোক খুব জোরে ও অনুরণিতভাবে নাক ডাকে, আবার কেউ কেউ আরো মৃদু ও শান্তভাবে নাক ডাকে। আপনার কণ্ঠস্বর যদি নরম হয়, তাহলে আপনার নিজের নাক ডাক শোনা আরো কঠিন হতে পারে।

আপনি যদি ক্রমাগত জোরে জোরে নাক ডাকেন, তাহলে এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হতে পারে। নাক ডাকা কখনো কখনো স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ, যা শ্বাসকষ্টের সমস্যা। তাই, যদি আপনার আশেপাশের কেউ আপনাকে নাক ডাকার কথা বলে, তাহলে ডাক্তারি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

নাক ডাকা অভ্যন্তরীণভাবে হয় এবং মস্তিষ্ক ঘুমিয়ে থাকার কারণে আমরা তা বুঝতে পারি না। কেবল আমাদের আশেপাশের লোকেরাই বলতে পারে যে আমরা নাক ডাকছি। তাই আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দিন এবং যদি নাক ডাকা খুব জোরে ও ক্রমাগত হয়, তাহলে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

সূত্র : নিউজ ১৮


Sunday, September 14, 2025

সকালে পানিতে ভেজানো কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা

 

সকালে খালি পেটে পানিতে ভেজানো কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে নতুন করে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। রূপ ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে, শরীর সুস্থ রাখতে এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে কাঠবাদাম একটি আদর্শ খাবার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদদের মতে, কাঠবাদামে রয়েছে বিপুল পুষ্টিগুণ। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি, বি, ও ই, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। তবে এসব পুষ্টিগুণ সহজে শরীরে শোষিত করার জন্য কাঠবাদাম আগে পানি ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, সকালে পানিতে ভেজানো কাঠবাদাম খাওয়ার ১০টি বড় উপকারিতা:

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়

কাঠবাদামে রয়েছে রিবোফ্লেভিন ও এল-ক্যারনিটিন, যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং আলঝেইমারসহ নানা মস্তিষ্কজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে

প্রচুর প্রোটিন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন-ই হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর কাঠবাদাম খেলে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক

বিশেষ করে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে কাঠবাদাম কার্যকর। এটি কোলনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

কাঠবাদামে থাকা ফসফরাস ও সামান্য পরিমাণ সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

কাঠবাদাম খাওয়ার পর ক্ষুধা কমে যায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

খারাপ কোলেস্টেরল কমায়

কাঠবাদাম শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে

এতে থাকা ফসফরাস ও অন্যান্য মিনারেল হাড় ও দাঁত মজবুত করে এবং অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

ফাইবার সমৃদ্ধ কাঠবাদাম হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। এটি কার্ডিওভাসকুলার রোগীদের জন্যও উপকারী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ভিটামিন-ই ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কাঠবাদাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

বিডি প্রতিদিন/মুসা 


Monday, September 1, 2025

খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারিতা

 

আমাদের রান্নাঘরে রসুন একটি পরিচিত উপাদান। ডাল, তরকারি এবং আচারের স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি রসুন প্রাচীনতম ঘরোয়া প্রতিকারের মধ্যে একটি। সকালে প্রথমে কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, উন্নত হজম এবং আরও অনেক কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও এর স্বাদ তীক্ষ্ণ এবং তীব্র গন্ধযুক্ত হতে পারে, তবে এর উপকারিতা আরও শক্তিশালী। খালি পেটে কাঁচা রসুন খেলে শরীরে আসলে কী ঘটে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

খালি পেটে কাঁচা রসুন খেলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে, কাঁচা রসুন অ্যালিসিনে ভরপুর, যা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি যৌগ। খাবার ছাড়া এটি খেলে শরীর অ্যালিসিনকে কার্যকরভাবে শোষণ করতে সাহায্য করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যে কারণে মৌসুমি সর্দি, ফ্লু এবং ছোটখাটো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা তৈরি হয়।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে

২০১৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, হৃদরোগের জন্য উভয়ই প্রধান ঝুঁকির কারণ। এটি রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে, রক্তনালিকে শিথিল করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

শরীরকে বিষমুক্ত করে

কাঁচা রসুন লিভারের প্রাকৃতিক বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও ভারী ধাতু অপসারণে সহায়তা করে। এটি শক্তির মাত্রা বাড়াতে, অলসতা কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে কাজ করে।

হজম মসৃণ করে

২০১৯ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, কাঁচা রসুন দিয়ে দিন শুরু করলে পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত হয় এবং গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা পেটকে দক্ষতার সাথে খাবার প্রক্রিয়া করতে সাহায্য করে। রসুনের প্রিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি করে, পেট ফাঁপা, বদহজম এবং অনিয়মিত মলত্যাগ থেকে মুক্তি দেয়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

যদিও রসুন কোনও জাদুর বড়ি নয়, তবে এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং বিপাক বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে। রসুন চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে এবং চিনির আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রসুনের উচ্চ সালফার উপাদান এটিকে অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য দেয়, যা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে পাচনতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এটি সাধারণ সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি করে এবং ব্লক হওয়া ধমনি পরিষ্কার করে হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। কাঁচা খেলে রসুনের ঔষধি গুণ সবচেয়ে ভালোভাবে উন্মুক্ত হয়।

সুন্দর ত্বক দেয়

রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে ত্বক ভালো রাখতে কাজ করে। কাঁচা রসুন ভেতর থেকে ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মোকাবিলা করে এবং প্রদাহ কমায়। উন্নত রক্ত ​​সঞ্চালন পুষ্টি আরও দক্ষতার সঙ্গে শোষণ করে, ফলে ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

প্রতিদিন কতটা কাঁচা রসুন খাওয়া যাবে?

বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন এক থেকে দুটি রসুনের কোয়া খাওয়ার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত খেলে তা পেটের আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে, তাই খাদ্যতালিকায় কাঁচা রসুন যোগ করার সময় সংযম অপরিহার্য।

বিডি প্রতিদিন/কেএ


Wednesday, August 27, 2025

পাইলসের রোগীরা যেসব খাবার থেকে দূরে থাকবেন

 

খাদ্যাভ্যাস আমাদের সুস্থতা কিংবা অসুস্থতায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। সঠিক খাবার যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে, তেমনই ভুল কিছু খাবার আবার বিভিন্ন অসুখের কারণ হতে পারে।

পাইলসের সমস্যায় ভুগছেন এমন কারো জন্য খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ কিছু খাবার এই সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কোন খাবারগুলো পাইলসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর—

অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার

বিভিন্ন মসলার বিভিন্ন গুণ আছে, একথা সত্যি। তবে তা খেতে হবে পরিমিত। বিশেষ করে যারা পাইলসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খুবই ক্ষতিকর। এ ধরনের খাবার পাইলসের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।তাই যতই লোভনীয় হোক, এড়িয়ে চলতে হবে মসলাদার খাবার। কারণ এ ধরনের খাবার আপনার হজমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলে পাইলসের সমস্যায় আরো ভুগতে হতে পারেন।

বো তেলে ভাজা খাবার

ডুবো তেলে ভাজা খাবার আসলে কারো জন্যই ভালো নয়।আর যারা পাইলসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর। পাইলসের রোগীরা এমন খাবার খেলে ব্যথা আরো বেড়ে যেতে পারে। পাইলসের সমস্যা দেখা দিলে তা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয়। এক্ষেত্রে ডুবো তেলে ভাজা খাবার বা এ ধরনের অন্যান্য খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত চা ও কফি

দিনে এক বা দুই কাপ চা কিংবা কফি ঠিক আছে।তবে এর চেয়ে বেশি খেতে গেলে দেখা দিতে পারে সমস্যা। বিশেষ করে আপনি যদি পাইলসের রোগী হন, তাহলে অবশ্যই অতিরিক্ত চা কিংবা কফি এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকে উপকারী মনে করে এই পানীয় বারবার পান করেন। এতে উপকারিতা থাকলেও তা অতিরিক্ত খেলে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেইসঙ্গে চা কিংবা কফির সঙ্গে চিনি মিশিয়ে খাওয়াও বন্ধ করতে হবে।

অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার

এ ধরনের খাবার সবার শরীরের জন্যই ক্ষতিকর। আর আপনার যদি পাইলস আগে থেকেই থেকে থাকে তাহলে তো কথাই নেই। এ ধরনের খাবার খেলে তা হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। যে কারণে বেড়ে যায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। প্রক্রিয়াজাত খাবারে ফাইবার কম থাকে। এর ফলে তা হজমে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে। এর পরিবর্তে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।পাইলসের রোগীরা কী খাবেন আর কী খাবেন না, জেনে নিন এক নজরে—

  • চা বা কফির খাওয়া পুরোপুরি রূপে বন্ধ করুন। বাইরের গরম/ঠাণ্ডা পানীয় পান করা বন্ধ করুন।
  • টক খাবার (তেতুল ,লেবু, আচার, টমেটো, দই, কমলালেবু, লেবু,ভিনিগার ইত্যাদি) রান্নায় দেবেন না।
  • আমিষ খাবার, যেমন ডিম পুরোপুরিভাবে গ্রহণ করবেন না।
  • কোনরকম মরিচ (লাল, সবুজ, লঙ্কার গুঁড়া) এবং মজাদার খাবার গ্রহণ করবেন না।
  • কোনোরকম অতিরিক্ত ভাজা ও তেলযুক্ত খাবার খাবেন না। সেদ্ধ খাবার খেতে পারেন।
  • কোনরকম ভারী পালস, যেমন কাল গ্রাম (ইউ আর ডি), কিডনি গ্রাম (রাজমাহা), লোব্যিয়া ইত্যাদি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
  • অ্যালকোহল, ধূমপান ও যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • কোনরকম ভারী ব্যায়াম, যেমন ওজন তোলা বন্ধ। কিন্তু সম্পূর্ণরূপে শয্যাশায়ী হওয়া উচিত নয়।
  • বেশি দূরে ভ্রমণ বন্ধ করুন, বেশিক্ষণ বসে থাকুন, প্রতি ১ ঘণ্টার পর ১০ মিনিট হেঁটে নিন। বেশি রাত পর্যন্ত কাজ অথবা জেগে থাকা বন্ধ করুন

এগুলোর পরিবর্তে

  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন (দিনে ৪-৫ লিটার)।
  • ৫০ থেকে ১০০ মিলিলিটার মুলার শরবত দিনে তিনবার করে পান করুন।
  • মূলা ও গাজর অবশ্যই খাবারে অথবা সালাদের সঙ্গে গ্রহণ করুন।
  • হালকা ও তরল খাবার, যেমন মুগ ডাল (গ্রিন গ্রামস), অড়হড় ডাল (হলুদ ডাল), ভাত ইত্যাদি।
  • প্রস্তাবিত খাবারের রুটিন

    ব্রেকফাস্ট : ডালিয়া /সবজি/ ফলের সালাদ ইত্যাদি খেতে পারেন।

    দুপুরের খাবার : অল্প শক্ত মিশ্রণের (খিচুড়ি) ভাত ও মুগ ডাল দুপুরের খাবার হিসেবে খেতে পারেন।

    রাতের খাবার : মুগ ডাল/সবজি এবং ভাত/রুটি হাফ চামচ বাড়িতে বানানো মাখন সবজিতে যোগ করে রাতে খাবার হিসেবে খেতে পারেন। সব রকম খাবার অবশ্যই মসলা, মরিচ ও তেল ছাড়া হবে। সিদ্ধ খাবার খাওয়া বেশি প্রস্তাবিত।

    এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ অথবা অন্য কোনো পাচক শক্তি বাড়ানোর জিনিস গরম পানিতে অথবা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঘুমানোর আগে গ্রহণ করুন। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যুক্ত ফল ও সবজি, যেমন পেঁপে, ফিগ, তরমুজ, ডালিম, পেয়ারা ইত্যাদি খান

  • সূত্র : লাইব্রেট

নখ দেখে বুঝে নিন শরীরে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না


সংগৃহীত ছবি

শরীরে কোনও সমস্যা দেখা দিলে আমরা সাধারণত নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থার অনেক ইঙ্গিত মেলে বাইরের কিছু লক্ষণ থেকেও। যেমন—ত্বক, চুল, গলার স্বর কিংবা নখ। বিশেষ করে নখের রং ও গঠন বদলে গেলে তা হতে পারে কোনও রোগের সতর্কবার্তা।

স্বাভাবিকভাবে সুস্থ নখ দেখতে মসৃণ হয় এবং রং থাকে একরকম। বয়স বাড়ার সঙ্গে নখ কিছুটা ভঙ্গুর বা নিস্তেজ হতে পারে, তবে শুধু বয়স নয়—নানা রোগের কারণেও নখের রং ও গঠনে পরিবর্তন আসে। চলুন, জেনে নিই নখের কোন পরিবর্তনগুলি কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে।

নখ চামচের মতো দেখালে
যখন নখের মাঝখানটা নিচু হয়ে চামচের মতো আকার নেয়, তখন বুঝতে হবে শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে।

এটি রক্তাল্পতার একটি লক্ষণ।

নখ থেকে চামড়া আলাদা হয়ে যাওয়া
কোনও আঘাত না লাগলেও যদি নখের চারপাশের চামড়া উঠে যায়, তা হলে এটি হতে পারে সোরিয়াসিস (ত্বকের রোগ), ছত্রাক সংক্রমণ, বা হাইপার থাইরয়েডিজম-এর ইঙ্গিত।

নখ কালচে হয়ে যাওয়া
এটি হতে পারে কিডনি বা লিভারের সমস্যার লক্ষণ। এমন পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নখের রং হলুদ হয়ে যাওয়া
ধীরে ধীরে নখ হলুদ হয়ে গেলে সাবধান হতে হবে। এর পেছনে থাকতে পারে: লিম্ফিডেমা (দুর্লভ জেনেটিক বা পরজীবীজনিত রোগ), ফুসফুসের রোগ, ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা, জন্ডিস

নখে সাদা দাগ বা ছোপ
নখের ওপর হঠাৎ সাদা দাগ দেখা গেলে তা হতে পারে: মানসিক চাপ বা আঘাতের পরিণতি, জিংকের ঘাটতির লক্ষণ, ছত্রাক সংক্রমণের উপসর্গ।

নখের পরিবর্তনকে অবহেলা করবেন না। সামান্য রং বা গঠনের বদলও শরীরের ভেতরের বড় কোনও অসুবিধার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই নিয়মিত নজর রাখুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

সূত্র : আনন্দবাজার


Saturday, August 16, 2025

আম খেলে কী ডায়াবেটিস বাড়ে?

গ্রীষ্ম এলেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে আমের সুবাস। হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ফজলি - নানান জাতের আম যেন আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু এই মৌসুমে কিছু মানুষ চাইলেও মনের খায়েশ মিটিয়ে আম খেতে পারেন না, তার প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। তাদের ধারণা আম খেলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাবে। আসলেই কী আম খেলে ডায়াবেটিস বাড়ে?

কেউ বলেন, ডায়াবেটিসে আম একেবারে নিষিদ্ধ। আবার কেউ বিশ্বাস করেন, আম খেলে ডায়াবেটিসই সেরে যায়! বাস্তবতা অবশ্য এর মাঝামাঝি।

এক্ষেত্রে মুম্বাইয়ের শীর্ষস্থানীয় ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. রাহুল বাক্সি জানান, আমের মৌসুমে তার কাছে যেসব রোগী আসেন, তাদের বেশিরভাগেরই সবচেয়ে কমন প্রশ্ন থাকে,  তারা আম খেতে পারবেন কিনা। তিনি জানান, আমের মৌসুম শেষে অনেক রোগীর শরীরের চিনির লেভেল বেড়ে যায়। কারণ তারা কোনো রকম নিয়মের মধ্যে না থেকেই আম খান।

তাই প্রশ্নটা শুধু আম খাওয়া নয়, কীভাবে, কতটা এবং কখন খাওয়া উচিত- সেই নিয়ম জানা জরুরি। সম্প্রতি দুটি ভারতীয় গবেষণা আম খেলে ডায়াবেটিস বাড়তে পারে- এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত ও পরিকল্পিতভাবে আম খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী হতে পারে।

ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত এক পাইলট স্টাডিতে দেখা গেছে, সফেদা, দশেরি ও ল্যাংড়া জাতের আম খাওয়ার পর রক্তে যতটা চিনি বাড়ে, তা রুটি খাওয়ার চেয়ে কম বা একই রকম।

৩৫ জন রোগীর ওপর ৮ সপ্তাহ ধরে আরেকটি গবেষণা করা হয়। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে রুটির পরিবর্তে ২৫০ গ্রাম আম খেয়ে ওই রোগীরা রক্তে শর্করা, ইনসুলিন নেওয়ার সমস্যা, ওজন ও কোমরের মাপে উন্নতি দেখিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলছেন, এই ফল খাওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি- একটি ছোট আমে আছে প্রায় ১৮০ ক্যালোরি। তাই এটি প্রতিদিনের ক্যালোরির হিসাব করে খেতে হবে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকলে, দিনে একবার বা দুইবার অর্ধেক আম খাওয়া যেতে পারে। তবে তা খাবারের মাঝে খাওয়া ভালো, ডেজার্ট হিসেবে নয়। 

তাই আম খেলেই যে বেড়ে যাবে ডায়াবেটিস, এমন ভাবনা ছেড়ে দিয়ে পরিমিতি, সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে আম হতে পারে আপনার গ্রীষ্মকালীন আনন্দের অংশ। তাই গ্রীষ্মে আম খান, কিন্তু জেনে-বুঝে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ইত্তেফাক/এনজি/এটিএন


 

Search This Blog

Powered by Blogger.