Showing posts with label ইসলামী জীবন. Show all posts
Showing posts with label ইসলামী জীবন. Show all posts

Friday, May 9, 2025

কাশ্মীরে ইসলামের আগমন যেভাবে

 

ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইসলাম কাশ্মীরের গৌরব-গরিমার অন্যতম দিক। ধারণা করা হয়, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই কাশ্মীরে মুসলমানদের আগমন ঘটেছিল।

কোনো কোনো ঐতিহাসিকের দাবি—মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর একদল সাহাবি কাশ্মীরে আগমন করেন এবং তাঁরা স্থানীয় শাসক ভিনাদত্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।স্থানীয় শাসকরা তাঁদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান এবং উপহারস্বরূপ একটি বড় জমিদারি দান করেন। ফলে সেনা অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকটি আরব পরিবার কাশ্মীরে থেকে যায়। তারা সে সময় কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি মসজিদও নির্মাণ করে।

কাশ্মীরের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ কলহন তাঁর ‘রাজতরঙ্গিনি’ বইয়ে লিখেছেন, খ্রিস্টীয় একাদশ শতাব্দীতে কাশ্মীরের রাজা হর্ষদেব তাঁর দরবারে বহু আরব মুসলিমকে সভাসদ ও সৈন্য হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, কাশ্মীরে ইসলাম ও মুসলমানদের উপস্থিতি বহু আগেই ঘটেছিল। তবে বেশির ভাগ ঐতিহাসিকের মতে, কাশ্মীরে ইসলামের প্রসার ঘটেছিল খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতকের শুরুর দিকে। তখন মধ্য এশিয়া, পারস্য ও আফগান অঞ্চল থেকে বহু মুসলিম অভিবাসী, আলেম ও সুফি কাশ্মীরে আগমন করেন। তাঁরা কাশ্মীরে দ্বিন প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ কাশ্মীরে স্থায়ীভাবে বসবাসও শুরু করেন।

কাশ্মীরে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন সুফি আলেম শায়খ শরফুদ্দিন আবদুর রহমান (রহ.)।তিনি বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের অধিবাসী ছিলেন। মোঙ্গলীয়দের অত্যাচার থেকে আত্মরক্ষা করতে তিনি কাশ্মীরে আসেন। কাশ্মীরের শ্রীনগরে নিজ আবাস গড়েন।

ইংরেজ ঐতিহাসিক লরেন্সের মতে, কাশ্মীরে ইসলামের প্রচার শুরু হলে ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় শাসক রেনজু শাহ রিনচেন সুফি আবদুর রহমান বুলবুল শাহ (রহ.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি একজন লাদাখি রাজপুত্র ছিলেন, যিনি ১৩২০ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর কাশ্মীরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম হয় সুলতান সদরুদ্দিন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ কাশ্মীরের ধর্মীয় ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনাও বটে। কেননা তাঁর ইসলাম গ্রহণের প্রভাবে তাঁর বেশির ভাগ প্রজা ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

 তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সদস্যও তখন ইসলাম গ্রহণ করেন। যেমন তাঁর ভগ্নিপতি রাওন চন্দর।এ ছাড়া বৌদ্ধদের একটি বড় অংশ এবং যারা ধর্মীয় জুলুম ও বর্ণ প্রথা থেকে মুক্তি পেতে চাইত তাদের অনেকে ইসলাম গ্রহণ করে। সুলতান রেনজু শাহ রিনচেন পরে সুফি বুলবুল শাহ (রহ.)-এর জন্য শ্রীনগরে একটি খানকা নির্মাণ করেন এবং মুসলমানদের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এটিই ছিল কাশ্মীরে প্রথম মসজিদ। শ্রীনগরের নাওয়াদকল নামক স্থানে অবস্থিত মসজিদটি বুলবুল শাহর নামে পরিচিত।

সুফি বুলবুল শাহ কাশ্মীরে ইসলামের যে বীজ রোপণ করেছিলেন তা ফুলে-ফলে বিকশিত হয়েছিল মীর সৈয়দ আলী হামদানি (রহ.)-এর প্রচেষ্টায়। তিনি ১৩৭২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৭৭৪ হিজরিতে ইরানের হামদান শহর থেকে কাশ্মীরে এসেছিলেন। সৈয়দ আলী হামদানি (রহ.) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। যিনি একই সঙ্গে একজন কোরআনে হাফেজ, ফকিহ, প্রাজ্ঞ আলেম, লেখক ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ইতিহাসের পাতায় ‘আলী সানি’ নামেও পরিচিত। তাঁর সঙ্গে আরো সাত শতাধিক ‘সৈয়দ’ (রাসুল সা.-এর বংশধর) কাশ্মীরে আগমন করেন। তাঁরা চার মাস কাশ্মীরে অবস্থান করে মক্কায় যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে ৭৮১ থেকে ৭৮৩ হিজরি পর্যন্ত কাশ্মীরে অবস্থান করেন। এরপর তিনি তুর্কমেনিস্তান যান এবং ৭৮৬ হিজরিতে সেখানেই তাঁর ইন্তেকাল হয়।

শায়খ আলী হামদানি (রহ.)-এর হাতে ৩৭ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর উৎসাহে তৎকালীন শাসক সুলতান কুতুবুদ্দিন কাশ্মীরে একাধিক মাদরাসা ও মসজিদ নির্মাণ করেন, যা উপত্যকায় ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আল্লামা হামদানি (রহ.) কাশ্মীরে শুধু ধর্মীয় জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতার প্রসার ঘটাননি, বরং তিনি পারস্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলারও বিকাশ ঘটান। তাঁর মাধ্যমে কাশ্মীরে কার্পেটশিল্প, শাল বোনা, ক্যালিগ্রাফি ও তাঁতশিল্পের বিকাশ ঘটে। এতে কাশ্মীরবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়।

মীর সৈয়দ আলী হামদানি (রহ.)-এর পর তাঁর সুযোগ্য সন্তান মীর মুহাম্মদ হামদানি কাশ্মীরে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ৭৯৬ হিজরি মোতাবেক ১৩৯৪ খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরে আগমন করেন। তাঁর দাওয়াতে সুলতান সিকান্দরের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপতি ‘সুহ ভাট’ ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলমান হওয়ার পর তিনি ‘সাইফুদ্দিন’ নাম ধারণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ বহু কাশ্মীরিকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল। সুলতান মীর মুহাম্মদ হামদানি (রহ.)-এর জন্য শ্রীনগরে একটি খানকা নির্মাণ করেন। খানকাটি বর্তমানে খানকাহ-ই-মাওলা নামে পরিচিত।

মীর মুহাম্মদ হামদানি (রহ.) ছাড়াও বেশ কয়েকজন সুফি আলেম কাশ্মীরে ইসলাম প্রসারে অবদান রাখেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েক হলেন বাবা জাইনুদ্দিন (রহ.), সৈয়দ মুহাম্মদ হেসারি (রহ.), শেখ হামজা মাখদুমি (রহ.), সৈয়দ আহমদ কিরমানি (রহ.) ও শেখ নুরুদ্দিন দায়ি (রহ.)। শেখ নুরুদ্দিন দায়ি (রহ.) কাশ্মীরের দুর্গম অঞ্চলে ইসলামের আলো পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ জন্য তাঁকে ‘আলমদার-ই-কাশ্মীর বা কাশ্মীরের ধ্বজাবাহী বলা হয়। তিনি একজন দক্ষ কবিও ছিলেন। এসব মহান দ্বিন প্রচারকের প্রচেষ্টায় কাশ্মীরের ৮০ শতাংশ মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে মোগল শাসকরা কাশ্মীরের শাসনভার গ্রহণ করেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় উপত্যকায় ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য উর্বর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় জম্মুর কিশতওয়ার অঞ্চলের রাজা জয় সিংহ মুসলমান হন। তিনি বিখ্যাত ইসলাম প্রচারক সৈয়দ ফরিদুদ্দিন বাগদাদি (রহ.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে উপত্যকায় ইসলামের অগ্রযাত্রা আরো গতিশীল হয়।

তথ্যঋণ : জিন্দেগি নাও ও কাশ্মীর উজমা


Friday, April 4, 2025

একাধিক মসজিদের আজান শোনা গেলে যা করব

 

শহর অঞ্চলে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদের দূরত্ব কম হয়। ফলে একই বাসা থেকে একাধিক মসজিদের আজান শোনা যায়। প্রশ্ন হলো, যে ব্যক্তি একাধিক মসজিদের আজান শোনেন তিনি কিভাবে আজানের উত্তর দেবেন? ব্যক্তি যেকোনো একটি মসজিদের আজানের উত্তর দেবে, নাকি সে সব মসজিদের আজানের উত্তর দেবে?

ইসলামী আইনজ্ঞ আলেমরা বলেন, আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। কেউ কেউ এটাকে ওয়াজিবও বলেছেন।

কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশসূচক বাক্য ব্যবহার করে বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনতে পাও, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বলো।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১১)

যদি কেউ একাধিক মসজিদের আজান শোনে যার একটি শেষ হওয়ার পর আরেকটি শুরু হয়, তবে সে প্রথম মসজিদের আজানের উত্তর দিলে দায় মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি সব মসজিদের আজান একই সঙ্গে শুরু হয়, তবে সে নিকটবর্তী মসজিদ বা নিজ মহল্লার মসজিদের আজানের উত্তর দিলে দায় মুক্ত হয়ে যাবে। তবে উভয় অবস্থায় একাধিক মসজিদের আজানের উত্তর দেওয়ার অবকাশ আছে।

ব্যক্তি যতবার আজানের উত্তর দেবে, ততবারই সওয়াব লাভ করবে। এ জন্য আলেমরা একাধিক আজানের উত্তর দেওয়াকে মুস্তাহাব বলেন। শায়খ আলিশ (রহ.) বলেন, যখন একসঙ্গে একদল মুয়াজ্জিন একের পর এক আজান দেয় তখন প্রথম আজানের উত্তরই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। (মানহুল জলিল : ১/২০২)

আল্লামা মাওয়ার্দি (রহ.) বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মুয়াজ্জিনের আজানের উত্তর দেওয়া বৈধ; বরং এটা মুস্তাহাব।

(আল-ইনসাফ : ১/৪২৬)

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘ব্যক্তি দ্বিতীয় বা তার পরবর্তী মুয়াজ্জিনের উত্তর দেবে। কেননা তা মুস্তাহাব। নবীজি (সা.)-এর যুগের আমলও অনুরূপ ছিল। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট না করেই বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনতে পাও, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বোলো।’

(আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা : ৫/৩২৪)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন।

আমিন।

Tuesday, March 4, 2025

বিতর নামাজের পর নবীজি (সা.) যে দোয়া পড়তেন

 


এখন পবিত্র রমজান মাস। তাই প্রত্যেক মুমিন মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করার চেষ্টা করেন। তারাবির প্রতি চার রাকাত পর একটি বিশেষ দোয়া পড়াকে জরুরি মনে করেন। কিন্তু আসলেই এ কাজটি জরুরি কি না এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আরো কোনো ভালো কাজ আছে কি না—সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

তারাবি নামাজ মূলত আরামের নামাজ। তারাবি ‘তারবিহাতুন’-এর বহুবচন। তারবিহাতুন শব্দের অর্থই হলো আরাম করা, বিশ্রাম করা। এই নামাজের একটি বিশেষ নিয়ম হলো, এই নামাজে চার রাকাত পর পর চার রাকাত পরিমাণ সময় বসে আরাম করার বিধান রয়েছে।

এ সময় আমাদের দেশের মুসল্লিরা একটি দোয়া পাঠ করাকে জরুরি মনে করেন। দোয়াটি হলো ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’

অথচ গবেষকদের মতে, তারাবির নামাজের চার রাকাত পর পর এবং ২০ রাকাত শেষে বিতরের পূর্বে কিছু সময় বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব।

এই বিরতির সময় কী করতে হবে শরিয়ত তা নির্ধারণ করে দেয়নি। তাই ফকিহরা বলেছেন, এ সময় মুসল্লিরা যেমন তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ  বা যেকোনো জিকিরে কাটাতে পারে, তেমনি কেউ চাইলে নীরবেও বসে থাকতে পারে। আর আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় পঠিত তাসবিহটির পূর্ণ পাঠ সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। আর তারাবির ‘তারবিহা’র (চার রাকাত পর বিশ্রামের) সময় পড়ার বিষয়টি একেবারেই নব আবিষ্কৃত। সাহাবায়ে কিরামের কেউ এ সময় এ ধরনের কোনো তাসবিহ পড়েছেন—এমন প্রমাণও পাওয়া যায় না।

তাই এই তাসবিহকে মুস্তাহাব বা সুন্নত মনে করার সুযোগ নেই এবং এটিকে এ ক্ষেত্রে পড়ার মতো নির্দিষ্ট তাসবিহও মনে করা যাবে না, বিশেষ করে কোনো কোনো এলাকায় যৌথভাবে উচ্চৈঃস্বরে যেভাবে তাসবিহটি পড়া হয় তা পরিহারযোগ্য। তবে তাসবিহর এ দোয়াটি হাদিসে বর্ণিত না হলেও তার অর্থ ঠিক আছে। তাই কেউ এটিকে সুন্নত মনে না করে ব্যক্তিগতভাবে অনুচ্চস্বরে পড়লে তাকে নিষেধ করারও প্রয়োজন নেই।

তবে আমরা বিতরের নামাজের পর নবীজি (সা.)-এর পঠিতব্য একটি দোয়ার আমল করতে পারি, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বিতরের নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা’ দ্বিতীয় রাকাতে ‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন’ এবং তৃতীয় রাকাতে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন। আর শুধু শেষ রাকাতেই সালাম ফিরাতেন অর্থাত্ সালামের পর তিনবার ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস’ বলতেন। (নাসায়ি, হাদিস : ১৭০১)

দোয়াটির অর্থ হলো, পূতঃপবিত্র রাজাধিরাজ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

উল্লেখ্য, হাদিসে বিতরের নামাজে নবীজি (সা.)-এর পঠিত কয়েকটি সুরার কথা উল্লেখ রয়েছে, এগুলো দিয়ে মাঝে মাঝে বিতর পড়া যেতে পারে, কিন্তু সব সময় এগুলো দিয়েই পড়াকে জরুরি মনে করা বা ইমাম সাহেবদের গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

Saturday, March 1, 2025

চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু কাল

 

চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু কাল


বাংলাদেশের আকাশে আজ শনিবার রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল রবিবার রোজা শুরু হবে। 

শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদ দেখা গেছে। সে খবর আমাদের কাছে এসেছে।

চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার ২৯ তম দিনে শেষ হচ্ছে শাবান মাস। আর আগামীকাল রবিবার শুরু হবে রমজান মাস।

ফলে আজ দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে রবিবার থেকে রোজা রাখবেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

রমজান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আজ শনিবার বাদ মাগরিব জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার সৌদি আরবে হিজরি ১৪৪৬ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়। ফলে আজ শনিবার দেশটিতে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রোজা।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ


Tuesday, February 4, 2025

সিলেটে যৌতুকবিহীন বিয়ের পিঁড়িতে ১৫ জুটি

 

সিলেটে যৌতুকবিহীন বিয়ের পিঁড়িতে ১৫ জুটি

সিলেট নগরীর আরামবাগে একটি কনভেনশন সেন্টারে বিয়ের ঝাঁকঝমকপূর্ণ আয়োজন। অতিথি প্রায় দুইশ’। বিয়ের আয়োজক আন্তর্জাতিক চ্যারেটি সংস্থা ‘আল খায়ের ফাউন্ডেশন’। এই নিয়ে সিলেটে দ্বিতীয়বারের মতো সংস্থাটি আয়োজন করেছিল যৌতুকবিহীন বিয়ের। 

সোমবার এই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১৫ জুটি। বরদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। বিয়ের আয়োজনে ছিল না কোন কমতি। নিম্ন আয়ের পরিবারের বর-কনের এই বিয়ের ঝাঁকঝমকপূর্ণ আয়োজন প্রশংসা কুড়িয়েছে সকল মহলে। 

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেকে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় একটি ভ্যানগাড়ি, সেলাই মেশিন, বিছানাপত্র, গ্যাসের চুলা, রান্নাবান্নার জিনিসপত্র, কাপড়, এক মাসের সদাইপাতি ও নগদ টাকা। 

বিয়ের পরে বর-কনে যাতে স্বাবলম্বী হতে পারেন সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় ‘আল খায়ের ফাউন্ডেশন’র পক্ষ থেকে। পরে বর-কনে ও উপহার সামগ্রী প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। 

ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ জানান, দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা ও যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

 যৌতুকপ্রথার কারণে অনেক দরিদ্র পরিবার মেয়ে বিয়ে দিতে কষ্ট হয়। এই প্রথার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতেই মূলত এমন বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


Search This Blog

Powered by Blogger.