Showing posts with label ইসলামী জীবন. Show all posts
Showing posts with label ইসলামী জীবন. Show all posts

Friday, May 9, 2025

কাশ্মীরে ইসলামের আগমন যেভাবে

 

ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইসলাম কাশ্মীরের গৌরব-গরিমার অন্যতম দিক। ধারণা করা হয়, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই কাশ্মীরে মুসলমানদের আগমন ঘটেছিল।

কোনো কোনো ঐতিহাসিকের দাবি—মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর একদল সাহাবি কাশ্মীরে আগমন করেন এবং তাঁরা স্থানীয় শাসক ভিনাদত্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।স্থানীয় শাসকরা তাঁদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান এবং উপহারস্বরূপ একটি বড় জমিদারি দান করেন। ফলে সেনা অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকটি আরব পরিবার কাশ্মীরে থেকে যায়। তারা সে সময় কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি মসজিদও নির্মাণ করে।

কাশ্মীরের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ কলহন তাঁর ‘রাজতরঙ্গিনি’ বইয়ে লিখেছেন, খ্রিস্টীয় একাদশ শতাব্দীতে কাশ্মীরের রাজা হর্ষদেব তাঁর দরবারে বহু আরব মুসলিমকে সভাসদ ও সৈন্য হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, কাশ্মীরে ইসলাম ও মুসলমানদের উপস্থিতি বহু আগেই ঘটেছিল। তবে বেশির ভাগ ঐতিহাসিকের মতে, কাশ্মীরে ইসলামের প্রসার ঘটেছিল খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতকের শুরুর দিকে। তখন মধ্য এশিয়া, পারস্য ও আফগান অঞ্চল থেকে বহু মুসলিম অভিবাসী, আলেম ও সুফি কাশ্মীরে আগমন করেন। তাঁরা কাশ্মীরে দ্বিন প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ কাশ্মীরে স্থায়ীভাবে বসবাসও শুরু করেন।

কাশ্মীরে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন সুফি আলেম শায়খ শরফুদ্দিন আবদুর রহমান (রহ.)।তিনি বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের অধিবাসী ছিলেন। মোঙ্গলীয়দের অত্যাচার থেকে আত্মরক্ষা করতে তিনি কাশ্মীরে আসেন। কাশ্মীরের শ্রীনগরে নিজ আবাস গড়েন।

ইংরেজ ঐতিহাসিক লরেন্সের মতে, কাশ্মীরে ইসলামের প্রচার শুরু হলে ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় শাসক রেনজু শাহ রিনচেন সুফি আবদুর রহমান বুলবুল শাহ (রহ.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি একজন লাদাখি রাজপুত্র ছিলেন, যিনি ১৩২০ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর কাশ্মীরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম হয় সুলতান সদরুদ্দিন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ কাশ্মীরের ধর্মীয় ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনাও বটে। কেননা তাঁর ইসলাম গ্রহণের প্রভাবে তাঁর বেশির ভাগ প্রজা ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

 তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সদস্যও তখন ইসলাম গ্রহণ করেন। যেমন তাঁর ভগ্নিপতি রাওন চন্দর।এ ছাড়া বৌদ্ধদের একটি বড় অংশ এবং যারা ধর্মীয় জুলুম ও বর্ণ প্রথা থেকে মুক্তি পেতে চাইত তাদের অনেকে ইসলাম গ্রহণ করে। সুলতান রেনজু শাহ রিনচেন পরে সুফি বুলবুল শাহ (রহ.)-এর জন্য শ্রীনগরে একটি খানকা নির্মাণ করেন এবং মুসলমানদের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এটিই ছিল কাশ্মীরে প্রথম মসজিদ। শ্রীনগরের নাওয়াদকল নামক স্থানে অবস্থিত মসজিদটি বুলবুল শাহর নামে পরিচিত।

সুফি বুলবুল শাহ কাশ্মীরে ইসলামের যে বীজ রোপণ করেছিলেন তা ফুলে-ফলে বিকশিত হয়েছিল মীর সৈয়দ আলী হামদানি (রহ.)-এর প্রচেষ্টায়। তিনি ১৩৭২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৭৭৪ হিজরিতে ইরানের হামদান শহর থেকে কাশ্মীরে এসেছিলেন। সৈয়দ আলী হামদানি (রহ.) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। যিনি একই সঙ্গে একজন কোরআনে হাফেজ, ফকিহ, প্রাজ্ঞ আলেম, লেখক ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ইতিহাসের পাতায় ‘আলী সানি’ নামেও পরিচিত। তাঁর সঙ্গে আরো সাত শতাধিক ‘সৈয়দ’ (রাসুল সা.-এর বংশধর) কাশ্মীরে আগমন করেন। তাঁরা চার মাস কাশ্মীরে অবস্থান করে মক্কায় যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে ৭৮১ থেকে ৭৮৩ হিজরি পর্যন্ত কাশ্মীরে অবস্থান করেন। এরপর তিনি তুর্কমেনিস্তান যান এবং ৭৮৬ হিজরিতে সেখানেই তাঁর ইন্তেকাল হয়।

শায়খ আলী হামদানি (রহ.)-এর হাতে ৩৭ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর উৎসাহে তৎকালীন শাসক সুলতান কুতুবুদ্দিন কাশ্মীরে একাধিক মাদরাসা ও মসজিদ নির্মাণ করেন, যা উপত্যকায় ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আল্লামা হামদানি (রহ.) কাশ্মীরে শুধু ধর্মীয় জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতার প্রসার ঘটাননি, বরং তিনি পারস্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলারও বিকাশ ঘটান। তাঁর মাধ্যমে কাশ্মীরে কার্পেটশিল্প, শাল বোনা, ক্যালিগ্রাফি ও তাঁতশিল্পের বিকাশ ঘটে। এতে কাশ্মীরবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়।

মীর সৈয়দ আলী হামদানি (রহ.)-এর পর তাঁর সুযোগ্য সন্তান মীর মুহাম্মদ হামদানি কাশ্মীরে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ৭৯৬ হিজরি মোতাবেক ১৩৯৪ খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরে আগমন করেন। তাঁর দাওয়াতে সুলতান সিকান্দরের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপতি ‘সুহ ভাট’ ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলমান হওয়ার পর তিনি ‘সাইফুদ্দিন’ নাম ধারণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ বহু কাশ্মীরিকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল। সুলতান মীর মুহাম্মদ হামদানি (রহ.)-এর জন্য শ্রীনগরে একটি খানকা নির্মাণ করেন। খানকাটি বর্তমানে খানকাহ-ই-মাওলা নামে পরিচিত।

মীর মুহাম্মদ হামদানি (রহ.) ছাড়াও বেশ কয়েকজন সুফি আলেম কাশ্মীরে ইসলাম প্রসারে অবদান রাখেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েক হলেন বাবা জাইনুদ্দিন (রহ.), সৈয়দ মুহাম্মদ হেসারি (রহ.), শেখ হামজা মাখদুমি (রহ.), সৈয়দ আহমদ কিরমানি (রহ.) ও শেখ নুরুদ্দিন দায়ি (রহ.)। শেখ নুরুদ্দিন দায়ি (রহ.) কাশ্মীরের দুর্গম অঞ্চলে ইসলামের আলো পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ জন্য তাঁকে ‘আলমদার-ই-কাশ্মীর বা কাশ্মীরের ধ্বজাবাহী বলা হয়। তিনি একজন দক্ষ কবিও ছিলেন। এসব মহান দ্বিন প্রচারকের প্রচেষ্টায় কাশ্মীরের ৮০ শতাংশ মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে মোগল শাসকরা কাশ্মীরের শাসনভার গ্রহণ করেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় উপত্যকায় ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য উর্বর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় জম্মুর কিশতওয়ার অঞ্চলের রাজা জয় সিংহ মুসলমান হন। তিনি বিখ্যাত ইসলাম প্রচারক সৈয়দ ফরিদুদ্দিন বাগদাদি (রহ.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে উপত্যকায় ইসলামের অগ্রযাত্রা আরো গতিশীল হয়।

তথ্যঋণ : জিন্দেগি নাও ও কাশ্মীর উজমা


Friday, April 4, 2025

একাধিক মসজিদের আজান শোনা গেলে যা করব

 

শহর অঞ্চলে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদের দূরত্ব কম হয়। ফলে একই বাসা থেকে একাধিক মসজিদের আজান শোনা যায়। প্রশ্ন হলো, যে ব্যক্তি একাধিক মসজিদের আজান শোনেন তিনি কিভাবে আজানের উত্তর দেবেন? ব্যক্তি যেকোনো একটি মসজিদের আজানের উত্তর দেবে, নাকি সে সব মসজিদের আজানের উত্তর দেবে?

ইসলামী আইনজ্ঞ আলেমরা বলেন, আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। কেউ কেউ এটাকে ওয়াজিবও বলেছেন।

কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশসূচক বাক্য ব্যবহার করে বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনতে পাও, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বলো।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১১)

যদি কেউ একাধিক মসজিদের আজান শোনে যার একটি শেষ হওয়ার পর আরেকটি শুরু হয়, তবে সে প্রথম মসজিদের আজানের উত্তর দিলে দায় মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি সব মসজিদের আজান একই সঙ্গে শুরু হয়, তবে সে নিকটবর্তী মসজিদ বা নিজ মহল্লার মসজিদের আজানের উত্তর দিলে দায় মুক্ত হয়ে যাবে। তবে উভয় অবস্থায় একাধিক মসজিদের আজানের উত্তর দেওয়ার অবকাশ আছে।

ব্যক্তি যতবার আজানের উত্তর দেবে, ততবারই সওয়াব লাভ করবে। এ জন্য আলেমরা একাধিক আজানের উত্তর দেওয়াকে মুস্তাহাব বলেন। শায়খ আলিশ (রহ.) বলেন, যখন একসঙ্গে একদল মুয়াজ্জিন একের পর এক আজান দেয় তখন প্রথম আজানের উত্তরই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। (মানহুল জলিল : ১/২০২)

আল্লামা মাওয়ার্দি (রহ.) বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মুয়াজ্জিনের আজানের উত্তর দেওয়া বৈধ; বরং এটা মুস্তাহাব।

(আল-ইনসাফ : ১/৪২৬)

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘ব্যক্তি দ্বিতীয় বা তার পরবর্তী মুয়াজ্জিনের উত্তর দেবে। কেননা তা মুস্তাহাব। নবীজি (সা.)-এর যুগের আমলও অনুরূপ ছিল। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট না করেই বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনতে পাও, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বোলো।’

(আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা : ৫/৩২৪)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন।

আমিন।

Tuesday, March 4, 2025

বিতর নামাজের পর নবীজি (সা.) যে দোয়া পড়তেন

 


এখন পবিত্র রমজান মাস। তাই প্রত্যেক মুমিন মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করার চেষ্টা করেন। তারাবির প্রতি চার রাকাত পর একটি বিশেষ দোয়া পড়াকে জরুরি মনে করেন। কিন্তু আসলেই এ কাজটি জরুরি কি না এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আরো কোনো ভালো কাজ আছে কি না—সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

তারাবি নামাজ মূলত আরামের নামাজ। তারাবি ‘তারবিহাতুন’-এর বহুবচন। তারবিহাতুন শব্দের অর্থই হলো আরাম করা, বিশ্রাম করা। এই নামাজের একটি বিশেষ নিয়ম হলো, এই নামাজে চার রাকাত পর পর চার রাকাত পরিমাণ সময় বসে আরাম করার বিধান রয়েছে।

এ সময় আমাদের দেশের মুসল্লিরা একটি দোয়া পাঠ করাকে জরুরি মনে করেন। দোয়াটি হলো ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’

অথচ গবেষকদের মতে, তারাবির নামাজের চার রাকাত পর পর এবং ২০ রাকাত শেষে বিতরের পূর্বে কিছু সময় বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব।

এই বিরতির সময় কী করতে হবে শরিয়ত তা নির্ধারণ করে দেয়নি। তাই ফকিহরা বলেছেন, এ সময় মুসল্লিরা যেমন তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ  বা যেকোনো জিকিরে কাটাতে পারে, তেমনি কেউ চাইলে নীরবেও বসে থাকতে পারে। আর আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় পঠিত তাসবিহটির পূর্ণ পাঠ সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। আর তারাবির ‘তারবিহা’র (চার রাকাত পর বিশ্রামের) সময় পড়ার বিষয়টি একেবারেই নব আবিষ্কৃত। সাহাবায়ে কিরামের কেউ এ সময় এ ধরনের কোনো তাসবিহ পড়েছেন—এমন প্রমাণও পাওয়া যায় না।

তাই এই তাসবিহকে মুস্তাহাব বা সুন্নত মনে করার সুযোগ নেই এবং এটিকে এ ক্ষেত্রে পড়ার মতো নির্দিষ্ট তাসবিহও মনে করা যাবে না, বিশেষ করে কোনো কোনো এলাকায় যৌথভাবে উচ্চৈঃস্বরে যেভাবে তাসবিহটি পড়া হয় তা পরিহারযোগ্য। তবে তাসবিহর এ দোয়াটি হাদিসে বর্ণিত না হলেও তার অর্থ ঠিক আছে। তাই কেউ এটিকে সুন্নত মনে না করে ব্যক্তিগতভাবে অনুচ্চস্বরে পড়লে তাকে নিষেধ করারও প্রয়োজন নেই।

তবে আমরা বিতরের নামাজের পর নবীজি (সা.)-এর পঠিতব্য একটি দোয়ার আমল করতে পারি, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বিতরের নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা’ দ্বিতীয় রাকাতে ‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন’ এবং তৃতীয় রাকাতে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন। আর শুধু শেষ রাকাতেই সালাম ফিরাতেন অর্থাত্ সালামের পর তিনবার ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস’ বলতেন। (নাসায়ি, হাদিস : ১৭০১)

দোয়াটির অর্থ হলো, পূতঃপবিত্র রাজাধিরাজ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

উল্লেখ্য, হাদিসে বিতরের নামাজে নবীজি (সা.)-এর পঠিত কয়েকটি সুরার কথা উল্লেখ রয়েছে, এগুলো দিয়ে মাঝে মাঝে বিতর পড়া যেতে পারে, কিন্তু সব সময় এগুলো দিয়েই পড়াকে জরুরি মনে করা বা ইমাম সাহেবদের গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

Saturday, March 1, 2025

চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু কাল

 

চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু কাল


বাংলাদেশের আকাশে আজ শনিবার রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল রবিবার রোজা শুরু হবে। 

শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদ দেখা গেছে। সে খবর আমাদের কাছে এসেছে।

চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার ২৯ তম দিনে শেষ হচ্ছে শাবান মাস। আর আগামীকাল রবিবার শুরু হবে রমজান মাস।

ফলে আজ দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে রবিবার থেকে রোজা রাখবেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

রমজান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আজ শনিবার বাদ মাগরিব জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার সৌদি আরবে হিজরি ১৪৪৬ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়। ফলে আজ শনিবার দেশটিতে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রোজা।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ


Tuesday, February 4, 2025

সিলেটে যৌতুকবিহীন বিয়ের পিঁড়িতে ১৫ জুটি

 

সিলেটে যৌতুকবিহীন বিয়ের পিঁড়িতে ১৫ জুটি

সিলেট নগরীর আরামবাগে একটি কনভেনশন সেন্টারে বিয়ের ঝাঁকঝমকপূর্ণ আয়োজন। অতিথি প্রায় দুইশ’। বিয়ের আয়োজক আন্তর্জাতিক চ্যারেটি সংস্থা ‘আল খায়ের ফাউন্ডেশন’। এই নিয়ে সিলেটে দ্বিতীয়বারের মতো সংস্থাটি আয়োজন করেছিল যৌতুকবিহীন বিয়ের। 

সোমবার এই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১৫ জুটি। বরদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। বিয়ের আয়োজনে ছিল না কোন কমতি। নিম্ন আয়ের পরিবারের বর-কনের এই বিয়ের ঝাঁকঝমকপূর্ণ আয়োজন প্রশংসা কুড়িয়েছে সকল মহলে। 

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেকে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় একটি ভ্যানগাড়ি, সেলাই মেশিন, বিছানাপত্র, গ্যাসের চুলা, রান্নাবান্নার জিনিসপত্র, কাপড়, এক মাসের সদাইপাতি ও নগদ টাকা। 

বিয়ের পরে বর-কনে যাতে স্বাবলম্বী হতে পারেন সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় ‘আল খায়ের ফাউন্ডেশন’র পক্ষ থেকে। পরে বর-কনে ও উপহার সামগ্রী প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। 

ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ জানান, দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা ও যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

 যৌতুকপ্রথার কারণে অনেক দরিদ্র পরিবার মেয়ে বিয়ে দিতে কষ্ট হয়। এই প্রথার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতেই মূলত এমন বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


Friday, January 31, 2025

তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমা আদায়

 

তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমা আদায়


ইজতেমার ময়দানে জুমার নামাজ আদায় করেন লাখো মুসল্লি। ছবি: সমকাল

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে শুরায়ে নেজামের (যোবায়ের অনুসারি) দুই ধাপের প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমার জুমার নামাজ। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে জুমার নামাজ শুরু হয়। খুতবা শুরু হয় ১টা ৪৩ মিনিটে। নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ যোবায়ের।

আজ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজে মূল ইজতেমা মাঠে জায়গা না পেয়ে মুসল্লিরা মাঠসংলগ্ন সড়ক, মহাসড়ক ও ফাঁকা জায়গায় নামাজ আদায় করেন।

ফজর নামাজের পর বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়া উল হক। তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা নুরুর রহমান। পৌনে ১০টায় খিত্তায় খিত্তায় তালিমের আমল হয়। তালিমের আগে মোজাকেরা (আলোচনা) করেন ভারতের মাওলানা জামাল সাহেব।

 এ ছাড়াও বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান হবে। যেমন, সকাল ১০টায় শিক্ষকদের বয়ানের মিম্বারে বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ফারাহিম সাহেব। ছাত্রদের সঙ্গে নামাজের মিম্বারে বয়ান করেন প্রফেসর আব্দুল মান্নান সাহেব, খাওয়াছদের (গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ) মাঝে টিনশেড মসজিদে বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আকবর শরিফ সাহেব।

এ পর্যন্ত ৭২টি দেশের প্রায় ২ হাজার ১৫০ জন বিদেশি

মুসল্লি ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানে এসে উপস্থিত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শুরায়ী নেজাম, তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি জানান, ইজতেমার আরও ৫ দিন বাকি আছে। এ সময়ে আরও বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লি ইজতেমায় যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ও তুরাগ নদের তীরে হাজারো মুসল্লির আনাগোনা। এর মধ্যে ইজতেমার মূল মাঠে বাঁশ ও চটের তৈরি শামিয়ানার নিচে অবস্থান করছেন হাজার হাজার মুসল্লি।

 তাদের কেউ বয়ান শুনছেন। কেউবা ব্যস্ত রান্না, অজু ও গোসলে। এর মধ্যেই দলে দলে মাঠে প্রবেশ করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা। তাদের কারও মাথায়, কাঁধে ব্যাগ। আবার কারও হাতে একাধিক ব্যাগ, পোঁটলা।

বিগত বছরগুলোতে তাবলীগের দু’পক্ষ মাওলানা জোবায়ের ও সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা দুই পর্বে আলাদাভাবে ইজতেমা করতেন।

 তবে এবারই প্রথম মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা একাই দুই ধাপে ইজতেমা করবেন। এর মধ্যে আজ ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হবে প্রথম ধাপের ইজতেমা। 

এ ধাপে অংশ নেবেন ৪১ জেলা ও ঢাকার একাংশের মুসল্লি। এরপর ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা। ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। আর ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাদের অনুসারীদের ইজতেমা পালনের কথা রয়েছে।


Thursday, January 30, 2025

শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, পবিত্র শবে বরাত ১৪ ফেব্রুয়ারি

 

শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, পবিত্র শবে বরাত ১৪ ফেব্রুয়ারি

প্রতীকী ছবি

দেশের আকাশে বৃহস্পতিবার ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আসছে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা করা হবে।

 এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। এর আগে, ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র শবে বরাতের তারিখ নির্ধারণ ও পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখার লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।



Wednesday, January 22, 2025

মহানবী (সা.)-এর মায়ের জীবনকথা

 

মহানবী (সা.)-এর মায়ের জীবনকথা




আমেনা বিনতে ওহাব মহানবী (সা.)-এর সম্মানিত মা। তাঁর পিতার নাম ওহাব ইবনে আবদে মানাফ। তাঁর বংশধারা হলো—আমেনা বিনতে ওহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব বিন মুররা। কিলাব পর্যন্ত গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বংশের সঙ্গে মিলে যায়। বিয়ের আগে তাঁর জীবনযাপন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না।

বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মা আমেনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে গর্ভে ধারণ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) পূর্ণ ৯ মাস তাঁর মা আমেনার গর্ভে ছিলেন। কিন্তু অন্য নারীরা সাধারণত ব্যথা, বমি ইত্যাদি যেসব বিষয়ের সম্মুখীন হন, তিনি এগুলোর কোনো কিছুরই অভিযোগ করেননি।

মা আমেনা গর্ভবতী থাকা অবস্থায়ই তাঁর স্বামী আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব মারা যান। এ কারণে তিনি গভীরভাবে শোকাহত হন। নবীজি (সা.)-এর বাবা আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার সময় পাঁচটি উট, জমিনের কিছু অংশ, একজন দাসী, যার নাম উম্মে আইমান ইত্যাদি ছাড়া কোনো কিছু রেখে যাননি।
হস্তি বাহিনীর ঘটনার ৫০ বছর পর (প্রসিদ্ধ মতে) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার মা আমেনা এই বরকতময় সন্তান প্রসব করেন।

কিন্তু হাদিসবিশারদ, তাফসিরবিদ ও ইতিহাস গবেষকদের মতে, মহানবী (সা.) ৮ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন। সাইয়েদা আমেনাকে স্বপ্নযোগে যে সংবাদ দেওয়া হয়েছিল তা তিনি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করলেন।

 তিনি দেখলেন, নবজাতক মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর হাত ও হাঁটুতে ভর করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে তর্জনী আঙুল দিয়ে তাসবিহ পাঠ করার মতো ইশারা করছেন। মা আমেনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে পুত্রসন্তান প্রসবের সংবাদ পাঠালেন।

দাদা আবদুল মুত্তালিব নাতির জন্মের সংবাদ পেয়ে দ্রুত চলে এলেন। অতঃপর আমেনা ‘তাঁর গর্ভকালীন স্বপ্ন ও মুহাম্মাদ নাম রাখার নির্দেশ’ ইত্যাদি তাঁর শ্বশুরের কাছে বললেন।

দাদা আবদুল মুত্তালিব শিশু মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে কাবা চত্বরে চলে গেলেন। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে আল্লাহর কাছে দোয়া ও শুকরিয়া আদায় করলেন এবং শিশুর নাম রাখলেন মুহাম্মাদ (সা.)। লোকেরা তাঁকে এই নাম রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, যেন আসমানে আল্লাহ তাআলা এবং জমিনে সব মানুষ তার প্রশংসা করুক।’ আর মা আমেনাই মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বপ্রথম দুধ পান করান।

 তিনি তাঁকে সাত দিন পর্যন্ত স্তন্যদান করেন। অতঃপর হালিমা সাদিয়া (রা.) শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে নিজ গোত্রে ফিরে যান। এখানেই রাসুল (সা.)-এর বক্ষবিদারণের ঘটনা ঘটে। সে ঘটনার পর হালিমা সাদিয়া (রা.) নবী (সা.)-কে মক্কায় মা আমেনার কাছে অর্পণ করেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত নবীজি (সা.) মা আমেনা ও তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন।

একদিন মা আমেনা তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং ছেলেকে মামাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ইয়াসরিবের বনি আদি ইবনে নাজ্জার গোত্রে যেতে চাইলেন। শ্বশুর আবদুল মুত্তালিবও তাঁকে যাওয়ার অনুমতি দিলেন।

 তিনি মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর দাসী উম্মে আইমানকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াসরিবে যান। সেখানে প্রায় এক মাস অবস্থান করেন। রাসুল (সা.) ইয়াসরিবে অবস্থানের সময় ইহুদি সন্ন্যাসীরা তাঁকে দেখেছিল এবং তাদের একজন তাঁর দিকে তাকিয়ে তাঁকে বলেছিল : হে বালক, তোমার নাম কী?  তিনি জবাব দিলেন, ‘আহমদ’। তখন সে সন্ন্যাসী তাঁর পিঠের দিকে তাকিয়ে বলল, এই বালক এই উম্মতের নবী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মা ও মামাদের বিষয়টি জানান। এতে মা আমেনা অত্যন্ত ভয় পান। তিনি রাসুল (সা.)-কে নিয়ে ইয়াসরিব থেকে বের হয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু মক্কা পর্যন্ত পৌঁছার আগেই আল আবওয়া নামক স্থানে মা আমেনা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি অনুভব করলেন যে তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। তিনি দাসী উম্মে আইমানকে তাঁর সন্তানের ব্যাপারে অসিয়ত করে যান। 

এ সময় তিনি নিম্নোক্ত বাক্যগুলো আবৃত্তি করেন : ‘জীবন মাত্রই মরতে হবেই। প্রত্যেক নতুন বস্তুই একদিন না একদিন পুরাতন ও নষ্ট হয়ে যাবেই। বস্তু যত বড় বড়ই হোক না কেন, তা একদিন না একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবেই। আমিও মারা যাব, কিন্তু আমার স্মৃতি অবশিষ্টই থেকে যাবে। আমি ভালো কিছু রেখে যাচ্ছি। এবং পূতঃপবিত্র সন্তান জন্ম দিয়েছি।’

এরপর মা আমিনা মারা যান এবং যেখানে মারা যান সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।



Thursday, January 9, 2025

যেভাবে কাটাব পবিত্র জুমাবার



জুমার দিনের বিশেষ গুরুত্ব তাৎপর্য
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে বরকতময় একটি দিন। এটি এমন একটি দিন, যা অসংখ্য ফজিলত রহমতে পরিপূর্ণ। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জুমার দিন শুরু হয় বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর এবং শেষ হয় শুক্রবার মাগরিবের সময়। এদিনের গুরুত্ব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতেই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম দিন হলো শুক্রবার। এই দিন আদম (.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (মুসলিম)

জুমার দিন আল্লাহর কাছ থেকে বরকত ক্ষমা লাভের সুযোগ, যা মুসলমানদের উচিত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে কাজে লাগানো।


জুমার দিনের করণীয় কাজগুলো

ADB2

. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
জুমার দিন অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় বেশি প্রস্তুতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় যত্ন নেওয়া উচিত। এদিন গোসল করা, নখ কাটা, দাঁত পরিষ্কার করা, সুন্দর পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমরা জুমার নামাজে আসবে, তখন গোসল করা উচিত। (বুখারি)

. জুমার খুতবা নামাজে অংশগ্রহণ
পুরুষদের জন্য জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা বাধ্যতামূলক। মসজিদে গিয়ে ইমামের খুতবা শোনা এবং নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, যখন জুমার দিনে নামাজের আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ছেড়ে দাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম। (সুরা জুমা: )

. বেশি বেশি দোয়া করা
জুমার দিনে বিশেষভাবে একটি সময় থাকে, যখন আল্লাহ বান্দার সব দোয়া কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করবে, তা তাকে দেওয়া হবে। (বুখারি মুসলিম) আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এই সময় বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দোয়া করা উচিত।

. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা

জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শুক্রবার সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই শুক্রবারের মধ্যে নুর থাকবে। (সুনান আল-কুবরা)

. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা
জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিনে আমার প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়। (আবু দাউদ)

. ইস্তিগফার করা পাপ মোচনের চেষ্টা
জুমার দিন ইস্তিগফার করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এটি আল্লাহর কাছে বান্দার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং পাপমুক্তির সুযোগ করে দেয়।

. দান-সদকাহ করা
জুমার দিনে দান-সদকাহ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দান-সদকাহ রাগকে ঠেকিয়ে দেয় এবং খারাপ মৃত্যু দূর করে। (তিরমিজি) গরিব-অসহায়দের সাহায্য করা এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানো আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি উত্তম মাধ্যম।


উপসংহার
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত বরকতপূর্ণ এবং তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত। ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া, জিকির, সুরা কাহফ তিলাওয়াত এবং নেক কাজের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করলে আল্লাহর রহমত বরকত লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিন যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন।

Search This Blog

Powered by Blogger.