Showing posts with label বাণিজ্য. Show all posts
Showing posts with label বাণিজ্য. Show all posts

Friday, August 15, 2025

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে তেল পরিবহন শুরু আজ, বন্দরে সাশ্রয় ২২৬ কোটি টাকা

 


😅চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরাসরি জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য নির্মিত পাইপলাইন সফল প্রাক-কমিশনিংয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে আজ শনিবার। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি পরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে। আগে নৌপথে ঢাকায় তেল পৌঁছাতে সময় লাগতো ৪৮ ঘণ্টা। এখন পাইপলাইনে লাগবে মাত্র ১২ ঘণ্টা।😅

বছরে সাশ্রয় হবে ২২৬ কোটি টাকা। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আজ সকালে চট্টগ্রামের গুপ্তখালে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডেসপাস টার্মিনালে উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল মুহাম্মদ হাসান-উজ-জামান উপস্থিত থাকবেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদন পাওয়া ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। করোনা পরিস্থিতিতে সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ হয়, খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। প্রকল্পে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪১.২৮ কিলোমিটার এবং গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসের ৮.২৯ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ২২টি নদী ও খাল পেরিয়ে যাওয়া এ ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নেটওয়ার্কে মোট ৯টি স্টেশন এবং ২৮৬.৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পথে কুমিল্লার মোগবাড়ীতে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ডিপো, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার এবং ফতুল্লায় যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক পরিবহনে কোনো সিস্টেম লস ছাড়াই প্রায় ৫ কোটি লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়। পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা ২.৭ থেকে ৩ মিলিয়ন মেট্রিকটন, যা ভবিষ্যতে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ মেট্রিক টন তেল পরিবহন সম্ভব।

আগে নৌপথে তেল পরিবহনে মাসে ১১০টিরও বেশি ট্যাংকার ব্যবহার হতো, বিপিসির বার্ষিক খরচ হতো প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা। পাইপলাইন চালুর পর খরচ নেমে আসবে ৯০ কোটি টাকায়। বছরে সাশ্রয় হবে অন্তত ২২৬ কোটি টাকা। এছাড়া সিস্টেম লস ও চুরি রোধ করেও খরচ কমবে। পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ঢাকায় জ্বালানি সরবরাহের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এএম

Saturday, April 5, 2025

এক পাঞ্জাবির দাম ৪ লাখ, শাড়ি দেড় লাখ টাকা! যা বলছেন বিক্রেতারা

সংগৃহীত ছবির্

রাজধানীর একটি ফ্যাশন আউটলেটে চার লাখ টাকায় বিক্রি করছে একটি পাঞ্জাবি। অন্য একটি ফ্যাশন আউটলেটে শাড়ির দাম দেড় লাখ টাকা। এখন প্রশ্ন উঠছে, পাঞ্জাবি ও শাড়ির কী বিশেষত্ব রয়েছে যে, এত দামে বিক্রি করতে হয়েছে? এ ছাড়া কারা এসব পাঞ্জাবি ও শাড়ির ক্রেতা?

বিক্রেতারা বলছেন, পাঞ্জাবি ও শাড়ির বেশি দাম হওয়ার অন্যতম কারণ উন্নতমানের কাপড় ও দক্ষ কারিগরের নিপুণ কাজ। এ ছাড়া পারসেপশন ভ্যালুকেও কেউ কেউ দাম বেশি হওয়ার কারণ ‍হিসেবে জানিয়েছেন।

তারা জানান, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে কলেজ শিক্ষার্থীরাও এসব পাঞ্জাবি ও শাড়ির ক্রেতা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাই ছিলেন এসব দামি পোশাকের অন্যতম ক্রেতা। সরকার পতনের পর এসব দামি পোশাকের বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। 

রাজধানীর বনানীর কয়েকটি ফ্যাশন আউটলেট ঘুরে বেশি দামি পাঞ্জাবি ও শাড়ি এ তথ্য জানা গেছে।প্রিমিয়াম ফ্যাশন ব্র্যান্ড আনজারায় চার হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৯৫ হাজার টাকার পাঞ্জাবি রয়েছে। তাদের আউটলেটে কাফতান শাড়ির দাম ১৪ হাজার ৮০০ থেকে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা।

একই এলাকায় আরেকটি ব্র্যান্ড জেকে ফরেন পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস বিক্রি করছে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকায়। এই দোকানে ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে শাড়ি।
আনজারার জনসংযোগ ব্যবস্থাপক নওশিন নাওয়ার জানিয়েছেন, তাদের কাপড়ে হাতের মাধ্যমে এমব্রয়ডারির কাজ করা হয়। এ ছাড়া ভালো মানের ফেব্রিক, নিখুঁত ডিজাইন ও ডায়িংয়ের কারণে দাম বেশি। 
কয়েকটি দোকানের বিক্রয়কর্মীরা জানান, ঈদকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ক্রেতাদের এই চাহিদা মেটাতে ব্র্যান্ডগুলো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে প্রিমিয়াম পোশাক আমদানি করে মজুত রেখেছিল।
তারা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দামি পোশাকের বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।বনানীর আবায়া অ্যান্ড গাউন ব্র্যান্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু সাঈদ সাদ্দাম বলেন, আমরা নিজেরাই এসব পণ্য তৈরি করি। পাশাপাশি কিছু পণ্য দুবাই ও চীন থেকে আনা হয়। 
নিখুঁত ডিজাইন ও ভালো ফেব্রিক শুধু নয় পারসেপশন ভ্যালুকে দাম বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন দেশীয় ব্র্যান্ড কে ক্রাফটের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান। তিনি বলেন, বেশি দামের পেছনে অন্যতম একটি কারণ হলো পারসেপশন ভ্যালু। এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। এখানে শুধু উৎপাদন খরচ কত সেটা বিষয় নয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও গবেষণাগার বিভাগের পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, বিশ্বের কোথাও মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে দাম নির্ধারণের লিগ্যাল ফ্রেম নেই। যদিও বাংলাদেশে সরকার কিছু নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। 
তিনি বলেন, যদি কোনো ক্রেতা মনে করেন তিনি দামের ক্ষেত্রে প্রতারিত হয়েছেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া উচ্চমূল্যের পণ্য নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এই দামগুলো আদৌ ন্যায্য কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে এবং বিক্রেতারা সবসময় এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেন না। সরকারের যথাযথ নজরদারির অভাবে কিছু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিচ্ছে। 

সূত্র : কালের কন্ঠ

Monday, February 10, 2025

রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

 

রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোশিয়েশন-বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে, সবশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। যা এতদিন ছিল দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত

Saturday, January 18, 2025

স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ১৫৫৫ টাকা

 

স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ১৫৫৫ টাকা

ফাইল ছবি

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রতি ভরিতে ভালো মানের স্বর্ণের (২২ ক্যারেট) দাম বেড়েছে এক হাজার ৫৫৫ টাকা। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে এক লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকায়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে স্বর্ণের নতুন এই দর কার্যকর হবে।

বুধবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের এ মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ১৪ হাজার ৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ৫৭৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ৪৪৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ১১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম এক হাজার ৫৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Saturday, January 4, 2025

বছরের প্রথম দিনেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল

 


নতুন বছরের প্রথম দিনেও আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১৮.২৫ ডলার। বুধবার সকালে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ছিল আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬২৪.৪৯ ডলার।

২০২৪ সাল ছিল স্বর্ণের সোনালি সময়। বছরজুড়েই দাম বেড়েছে এই ধাতুর। গত এক বছরে এই ধাতুর দাম বেড়েছে ২৬.৫৪ শতাংশ বা ৫৪৬.৬৩ ডলার। আজ বছরের প্রথম দিনেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

 

খবর ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল ও রয়টার্স প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১০ সালের পর স্বর্ণের বাজার সবচেয়ে ভালো সময় পার করেছে ২০২৪ সালে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রানীতির রাশ আলগা হওয়ার কারণে ২০২৪ সালে এর দাম বেড়েছে।

স্পট মার্কেটে বছরের শেষ দিন স্বর্ণের দাম বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ; প্রতি আউন্সের দাম ওঠে ২ হাজার ৬১৫ ডলারে।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান উইজডমট্রির ম্যাক্রো ইকোনমিক গবেষণা পরিচালক অনীকা গুপ্ত বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা, মুদ্রানীতির সহজিকরণ স্বর্ণের দাম বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড কমোডিটি (ইটিসি) ছিল ২০২৪ সালে স্বর্ণের দাম বাড়ার মূল চালিকা শক্তি।

তিনি বলেন, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর ধীরগতির মতো কিছু চাপ সত্ত্বেও স্বর্ণের দাম ২০২৫ সালে আরও বাড়তে পারে।

ডিসেম্বর মাসে আবারও নীতি সুদহার কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফেডারেল রিজার্ভ। তবে, ২০২৫ সালে কিছুটা কমতে পারে সুদহার কমানোর এই গতি। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কার্যক্রমের কারণেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। নির্বাচনী প্রচারণা সময়ই ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি করবেন। সেই সঙ্গে বাণিজ্যের নিয়মকানুন শিথিল করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেবে ট্রাম্প প্রশাসন। 

স্বর্ণের দাম বাড়ার মূল কারণ হলো, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।

আর্থিক পরিষেবা কোম্পানি এক্সিনিটি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান বলেন, ট্রাম্পের শাসনামলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে ২০২৫ সালেও ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে স্বর্ণের বাজার।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পণ্যবিষয়ক কৌশলবিদ ডান স্ট্রুইভেন বলেন, ভবিষ্যতে আউন্সপ্রতি তিন হাজার ডলারে উঠতে পারে স্বর্ণের দাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ চাহিদা ও ফেডের সুদহার কমানোর কারণে দাম এভাবে বাড়তে পারে।

গত এক বছরে বিশ্ববাজারে রুপার দামও বেড়েছে। ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি বেড়েছে ২২.৪৮ শতাংশ। তবে বুধবার সকালে বিশ্ববাজারে রুপার দাম ০.৩৯ শতাংশ কমেছে। দাম ছিল আউন্সপ্রতি ২৮.৮৪ ডলার।

২০২৪ সালে স্বর্ণের দাম অনেকবার রেকর্ড ভেঙেছে। শুধু তৃতীয় প্রান্তিকে মোট চাহিদা অতিক্রম করেছিল ১০ হাজার কোটি ডলার। গত ৩১ অক্টোবর মূল্যবান ধাতুটি আউন্সপ্রতি রেকর্ড ২ হাজার ৭৯০ ডলার ১৫ সেন্টে উঠে যায়; এরপর অবশ্য দাম বেশ কিছুটা কমেছে। গত বছর প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম ৭ ও ১৭ শতাংশ কমেছে।

Monday, December 30, 2024

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ২৬ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ নিয়ে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিজার্ভের হালনাগাদ চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:

  • গ্রস রিজার্ভ: চলতি মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলার।
  • আইএমএফের হিসাব (বিপিএম-৬): আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরিমাপ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২১ বিলিয়ন ডলার (২,১৩৩ কোটি ডলার), যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ হিসাবে দেশের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণ

  • বিদেশি অনুদান: সম্প্রতি বিদেশি অনুদান রিজার্ভে যোগ হওয়ায় বৃদ্ধি হয়েছে।
  • বৈধ রেমিট্যান্স: চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে বৈধ পথে ২৪২ কোটি ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯,০৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা হিসেবে)। প্রতিদিন গড়ে ৮.৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
  • বিনিময় হার স্থিতিশীলতা: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করেছে।

নিট রিজার্ভ ও এর হিসাব

আইএমএফের 'বিপিএম-৬' নিয়ম অনুযায়ী, মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত, একটি দেশের রিজার্ভের ন্যূনতম পরিমাণ তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট বলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উন্নতির দিকে। রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে।

Search This Blog

Powered by Blogger.